
এলেকায় আমাগের এক ভাইপো ছিল, নাম তার আব্দুর রশিদ। তামান জাগায় তার পরিচিতি ছিল রশিদ নামেই। বয়েস যায় যায় ভাব ইরাম সুমায় একবার তার চাকরি হইলো কাউন্সিল বোডে। ভাইপো চাকরির পেত্তম দিন যোগ দিয়ে আইসেই সেইরাম খুশি। নতুন চাকরি হলি মানুস আল্লাদে আটখান হবে সিডাই স্বাভাবিক। তেবে ভাইপোর এই উসোই আনন্দ দেইকে তার তফাতে ডাইকে নিয়ে যাইয়ে চাপনিতি শুনলাম আনন্দের হেতু ডা কি। আমার জানতি চাওয়ার উসসাহ দেইকে ভাইপো অল্প জ্বালে ঘটকচুর মতো এ্যাবার আইলোয় গেলো। কলে চাচা, নতুন চাকরি এট্টা খুশির খবর সিডা তো ছিলোই। তার ওপরে কত্তিরপক্ক যে আমার ওপর হ্যাতো বিশ্বাস করবে তা আমার কল্পনায়ও ছিল না। তার কতায় আকাটা মাইরে গেলাম। মাত্তর পেত্তম দিনিই যাতি না যাতিই কি ইরাম কাজ কইল্লো যে কত্তিরপক্ক তারে হ্যাতো বিশ্বাস করবে! আর কইল্লোওব্বা তারে কি দায়িত্ব দেলে তাই শুনার জন্যি জানের মদ্দি আকু পাকু কত্তি লাইগলো। ও দিকি ভাইপোর অবস্তাও আমার চাইতেও বলবৎ। কি খাইন বাইদলো সিডা হেজেমানে কইরে কওয়ার জন্যি তার প্যাটের মদ্দিও বুগলা মাইরে উটতেচে তার আলামত বাইরোয় পড়তিলো। আন্দাজ কত্তি পাইরে তারে কলাম, খামাকা দেরি কইরো নো পিসার হাই করার দরকার নেই। বিচি ভাইঙ্গে ক’ কি হইয়েচে। ভাইপো নিকচোয় কলে, চাচা আমি অফিসি যাইয়ে দেকলাম অফিসির সিঙ দরজায় নুটিশ ঝুলোনো। তাতে গুটা গুটা অক্ষরে লিখা, রশিদ ছাড়া কেউ টাকা লেনদেন করবেন না। তালি কও তারা আমারে কি বিশ্বাসডাই না করে ! ভাইপোর কতা শুইনে পাটায় পড়ায় জুগাড়। ‘রশিদ ছাড়া কেউ টাকা লেনদেন করবেন না’ কত্তিরপক্ক এই লিকা দিয়ে কি বুজোতি চাইয়েচেন আর ভাইপো বুইজলোডা কি ! হালি কইরে আশপাশে আমার ভাইপো রশিদির মতো অনেকরেই দেকতিচি। তারাও আড়ে দিঘি কিচু মিল অনুমান কইরেই ভাইবে নেচ্চে সব তাইগের জন্যি। স্বপনে বাতাসা খাইয়ে গাল চুয়ালি যিরাম দশা হয় সিরাম আর কি। তেবে যকন বারো হাত কাকড়ের তের হাত বিচি বাইরোয় যাবে তকন বুজদি পাইরে কতি হবে, আশায় আশায় তবু এই আমি থাকি, যদি আসে কোন দিন সেই সুখ পাখি এই চাইয়ে থাকা আর পিরাণে সয়না...। ইতি অভাগা আক্কেল চাচা
মন্তব্য করুন