
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ সিম্পা (২২) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার লাউয়ারী (কান্দাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম (২৭) এবং তার বাবা আব্দুল হাই (৫৫)।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে সিম্পার সঙ্গে মফিজুল ইসলামের বিয়ে হয়। গত ৯ মে রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মফিজুল ইসলাম সিম্পাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরদিন সকালে একই বিষয়কে কেন্দ্র করে আবারও তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ঝাড়ু, খুন্তি ও বৈদ্যুতিক লাইটের অংশ দিয়ে সিম্পাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মৃত্যু হলে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করার উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পরে সিম্পাকে শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ফুলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গত শুক্রবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড়ের মনাইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ফুলপুর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন