
ফিলাডেলফিয়ার তীব্র গরম আর প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ—দুইয়ের যুগপৎ চ্যালেঞ্জ সামলে জয় তুলে নিল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি গোলে লাতিন আমেরিকার দলটিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দিদিয়ে দেশোঁর শিষ্যরা। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে ফরাসিদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো।
ম্যাচের শুরু থেকেই এমবাপে, দেম্বেলে ও ওলিসেদের আটকাতে আল্ট্রা-ডিফেন্সিভ বা পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে প্যারাগুয়ে। বেশিরভাগ সময় তাদের ১০ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কেই নিজেদের ডি-বক্সের আশেপাশে দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই সাথে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ট্রানজিশন ও কাউন্টার অ্যাটাক সামাল দিচ্ছিল তারা।
ফলাফলস্বরূপ, ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটে ৮০ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখেও প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ফ্রান্স। ৩১তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের ক্রস থেকে কিলিয়ান এমবাপে হেড করার সুযোগ পেলেও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বাধায় তা ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে কোনো কঠিন পরীক্ষাই নিতে পারেনি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিরতির পর প্যারাগুয়ে কিছুটা ওপরে উঠে খেলার চেষ্টা করলে ম্যাচের চিত্র বদলাতে শুরু করে। আক্রমণের সুযোগ পায় ফ্রান্সও। ৫২তম মিনিটে গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁর লম্বা পাস ধরে এমবাপে গতিতে পরাস্ত করতে চেয়েছিলেন প্রতিপক্ষকে, তবে শেষ মুহূর্তে তা ক্লিয়ার করেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার কাসেরেস। এরপর মানু কোনের একটি বুলেট গতির শট দুর্দান্ত দক্ষতায় এক হাত দিয়ে ফিরিয়ে দেন প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক ওরলান্দো হিল।
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডি-বক্সের ভেতরে দেজিরে দুয়ে ফাউলের শিকার হলে শুরুতে রেফারির এড়িয়ে যান। তবে পরবর্তীতে ভিএআর এর পরামর্শে সাইড মনিটর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথার শটে ডেডলক ভাঙেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে।
পিছিয়ে পড়ার পর প্যারাগুয়ে শারীরিক ফুটবল খেলা শুরু করে, যা ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দে বিঘ্ন ঘটায় এবং মাঠে বাড়তি উত্তাপ ছড়ায়। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে ডাগআউটে প্যারাগুয়ে কোচকে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়, এমনকি হাইড্রেশন ব্রেকের সময়ও মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যে মৃদু উত্তেজনা তৈরি হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপে আরও কয়েকটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন। ৮৯তম মিনিটে রায়ান শের্কির পাস থেকে নেওয়া তাঁর শট এবং যোগ করা ১০ মিনিটের মধ্যে আরও দুটি প্রচেষ্টা চমৎকারভাবে রুখে দিয়ে ফ্রান্সের ব্যবধান বাড়তে দেননি প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক হিল।
এক নজরে ম্যাচের পরিসংখ্যান ও রেকর্ড বল দখল: ফ্রান্স (৭৫%), প্যারাগুয়ে (২৫%)
মোট শট: ফ্রান্স ১৫টি (লক্ষ্যে ৫টি), প্যারাগুয়ে ৫টি (লক্ষ্যে ১টি)
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ৭টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে শীর্ষে উঠলেন এমবাপে।
বিশ্বকাপে এটি এমবাপের ১৯তম গোল। তাঁর চেয়ে মাত্র ১টি গোল বেশি নিয়ে এই তালিকার চূড়ায় আছেন লিওনেল মেসি (২০টি)।
সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে মরক্কোর। গত বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে এই মরক্কোকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল দিদিয়ে দেশোঁর দল। এবারও কি সেই স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে, নাকি মরক্কো নেবে প্রতিশোধ—তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
মন্তব্য করুন