
কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত থাকলেও শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে রোববার (৫ জুলাই) থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে তাপমাত্রা।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের কারণে সাগর থেকে জলীয় বাষ্পের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে।
বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে সারা দেশে বাড়বে বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে রয়েছে ভারী বর্ষণ, তাপমাত্রা হ্রাস এবং কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সতর্কতা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
রোববার থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টিপাত শুরু হলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টির আগে এবং বৃষ্টির বিরতিতে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বজায় থাকতে পারে।
আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশেই তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বর্ষা মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস জুলাই হওয়ায় ভারী বর্ষণের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উপকূলীয় জেলাগুলোতে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৫১টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের মধ্যে ২০টিতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে সর্বোচ্চ ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজধানী ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এছাড়া রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ফেনী ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়।
সর্বশেষ পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে প্রথমে চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হবে। পরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বিভাগেও ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে এবং সপ্তাহজুড়েই এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ইতোমধ্যে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন