
১২০ মিনিটেও ১-১ সমতা। এরপর ফুটবল ভাগ্যের নিষ্ঠুরতম পরীক্ষা 'টাইব্রেকার'। আর সেই চরম উত্তেজনার পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়ার নিজেদের ভুলে কপাল পুড়ল, আর নিখুঁত নিশানাবাজিতে বিশ্বমঞ্চের 'শেষ ষোলো' বা রাউন্ড অব সিক্সটিনের টিকিট কেটে নিল ফারাওরা। টাইব্রেকারে মিশরের গোলরক্ষককে কোনো শট ঠেকাতে না হলেও, চরম চাপের মুখে অস্ট্রেলিয়ার শ্যুটারদের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।
১৩ মিনিটের ম্যাজিক বনাম ৫৫ মিনিটের ট্র্যাজেডি
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের লড়াই ছিল দেখার মতো। প্রথমার্ধের ১৩তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মোহাম্মদ সালাহর বুদ্ধিদীপ্ত শর্ট পাসে ইমান আশুর প্রথম শট নেন। তা ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলে রিবাউন্ডে নিখুঁত এক হেডে মিশরকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন আশুর। তবে এই স্বস্তি কেড়ে নেয় দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিট। অস্ট্রেলিয়ার এক ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের রক্ষণভাগের ভুল বোঝাবুঝিতে আত্মঘাতী গোল করে বসে মিশর। উপহারের এই গোলে ১-১ সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
টাইব্রেকারের নিখুঁত বর্ণনা: মিশরের শতভাগ সাফল্য, অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতা
নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে দুই দলের গোল ও মিসের সুনির্দিষ্ট চিত্র নিচে দেওয়া হলো।
মিশরের নিখুঁত পেনাল্টি: টাইব্রেকারে মিশরের শ্যুটাররা ছিলেন চরম পেশাদার ও ঠাণ্ডা মাথার। মোহাম্মদ সালাহসহ মিশরের প্রতিটি শ্যুটার অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষককে পুরোপুরি পরাস্ত করে নিজেদের সবগুলো শটই সফলভাবে জালে জড়ান। পেনাল্টিতে মিশরের রূপান্তর হার ছিল শতভাগ।
অস্ট্রেলিয়ার স্নায়ুর চাপ ও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট
অন্যদিকে, শেষ ষোলোয় ওঠার তীব্র চাপের মুখে ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার শ্যুটাররা। মিশরের গোলরক্ষককে কোনো সেভ করতে হয়নি; বরং অস্ট্রেলিয়ার শ্যুটাররা শট নিতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন। সকারুজদের পেনাল্টি শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং আরেকটি শট সাইড পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার এই লক্ষ্যভ্রষ্ট ও পেনাল্টি মিসের সুযোগে টাইব্রেকার শেষ হওয়ার আগেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় মিশরের। মাঠের ভেতরেই উদযাপনে মেতে ওঠে সালাহ-আশুররা।
মন্তব্য করুন