
ঝিনাইদহের মহেশপুরে কয়েকটি সচ্ছল হিন্দু পরিবার বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিক্রি করে নীরবে ভারতে চলে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি পরিবারও গোপনে সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসীর কেউ কেউ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই উপজেলার জননী ইলেকট্রনিক্সের মালিক কালিপদ পরামানিকের ছেলে শম্ভু পরামানিক তার দোকান ও বসতবাড়ি বিক্রি করে ভারতে চলে যান। জানা গেছে, ওই দিন রাত ১০টা পর্যন্ত তার দোকান খোলা ছিল। পরে বোয়ালিয়া গ্রামের মাসুদ রানা তার বাড়িটি এবং বর্জাপুর গ্রামের গোবিন্দ পরামানিকের ছেলে বঙ্কেশ পরামানিক দোকানটি ক্রয় করেন।
এর কয়েকদিন আগে মহেশপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মনিমালা স্টুডিওর মালিক শংকর বেনের ছেলে প্রশান্ত বেনে ঘুগরি পান্তাপাড়ার ডাবলুর কাছে জমিজমা বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
এছাড়া মহেশপুর বারুইপাড়ার অনিল পালের ছেলে অখিল পাল, মহেশপুর হালদারপাড়ার ভক্ত হালদারের ছেলে লালন হালদার এবং রামচন্দ্রপুর গ্রামের হাজারি কর্মকারের ছেলে শক্তি মাস্টারও তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কী কারণে এসব পরিবার দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। সম্পত্তি বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তারা চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বিষয়টি অনেকেই জানতে পারেন না।
মহেশপুর বণিক সমিতির সাবেক সেক্রেটারি আব্দুস সেলিম বলেন, "মহেশপুর শহরের কয়েকটি হিন্দু পরিবার গোপনে ভারতে চলে গেছে। আরও কয়েকটি পরিবার নীরবে সম্পত্তি বিক্রির কাজ করছে। তারাও হয়তো অল্পদিনের মধ্যেই চলে যেতে পারে।"
মহেশপুরের ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম আনার বলেন, "এসব পরিবার অত্যন্ত গোপনে সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে যাচ্ছে। তারা চলে যাওয়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারছি।"
একই ধরনের বক্তব্য দেন মহেশপুরের ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা নন্দলাল দত্ত। তিনি বলেন, "তারা আমার প্রতিবেশী হলেও কখন, কীভাবে চলে গেছেন, তা আমরা টের পাইনি।"
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিক্রি করা সম্পত্তির অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন