রবিবার
০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
কৃষিমন্ত্রী

কৃষকের লোকসান ঠেকাতে সৌরশক্তিচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে

মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
বক্তব্য রাখছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

দেশের কৃষি খাতে স্থিতিশীলতা আনা এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সারাদেশে সৌরশক্তিচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কৃষকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, "দেশে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে সঠিক সমন্বয় না থাকা এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা নিয়মিত লোকসানের মুখে পড়ছেন। এই সংকট দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় সরকারি খরচে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।"

তিনি বলেন, "মাঠ পর্যায়ের এসব কোল্ড স্টোরেজ মূলত সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ফলে পরিচালন ব্যয় থাকবে খুবই কম। জরুরি ব্যাকআপের জন্য মাসে মাত্র ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। ক্ষেতের কাছাকাছি এসব সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হলে কৃষকের পণ্য পরিবহনের বাড়তি খরচ কমবে। একই সঙ্গে পচনশীল পণ্যের অপচয়ও অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।"

মন্ত্রী আরও বলেন, "ভরা মৌসুমে বাজারে টমেটো বা কাঁচা মরিচের মতো পণ্যের সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। এতে অনেক সময় কৃষক ক্ষেত থেকে ফসল তুলতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অথচ অফ-সিজনে সেই টমেটো ১২০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। মিনি কোল্ড স্টোরেজের সুবিধা থাকলে কৃষকরা পণ্য সংরক্ষণ করে পরে সুবিধাজনক দামে বিক্রি করতে পারবেন। এতে বছরজুড়ে বাজারে সরবরাহ ও দাম-দুটিই তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকবে।"

মন্ত্রী জানান, সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আওতায় আনতে দেশব্যাপী 'কৃষক কার্ড' বিতরণের মাধ্যমে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। এই ডিজিটাল রেকর্ডে কোন অঞ্চলের কোন কৃষক কতটুকু জমিতে কী ধরনের সবজি বা ফসল চাষ করছেন, তার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

তিনি বলেন, এসব তথ্যের ভিত্তিতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। উৎপাদনে ভারসাম্য বজায় থাকলে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকদের ঠকানোর সুযোগ থাকবে না।

সভায় সরকারি পর্যায়ে ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়ও উঠে আসে।

মন্ত্রী জানান, দেশের অন্যতম প্রধান শস্যভাণ্ডার হাওরাঞ্চলের ধান রক্ষায় আগাম জাতের ধান উদ্ভাবনে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এসব ধান প্রচলিত জাতের চেয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০ দিন আগে কাটা যাবে। এতে আকস্মিক বন্যা বা অতিবৃষ্টির হাত থেকে হাওরের ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, কোনো কারণে জমি তলিয়ে গেলেও পানির এক হাত নিচ থেকে ধান কেটে আনার উপযোগী বিশেষ আন্ডারওয়াটার হারভেস্টিং মেশিন বা আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্ববাজার থেকে সংগ্রহের জন্য কৃষি প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "সমুদ্রে অবৈধ মৎস্য শিকার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে চলা এ ধরনের অবৈধ তৎপরতা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

তিনি বলেন, "মা ইলিশ ও জাটকা নিধনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে পাহারাদার বাহিনী হিসেবে কোস্টগার্ডের জনবল ও সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। নদীর নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে ইলিশের পরিযায়নে যে বাধা তৈরি হচ্ছে, তা দূর করতে বিশেষ নদী খনন প্রকল্প নেওয়া হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।"

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের সারা বছর আয়ের পথ তৈরি করতে বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো জেলেদের শোষণ ও ঋণের জাল থেকে মুক্ত করা। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এলে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার প্রবণতাও কমে যাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু স্থানীয় বাজারে ইলিশের প্রাপ্যতা ও দাম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না, বরং বিশ্ববাজারে ইলিশের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এটিকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি আয়ের খাতে পরিণত করতে চায়।

সঠিক ও আন্তর্জাতিক মানের বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তৃণমূল সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিল ঋতব্রত শিবির

স্বাগতিক কানাডাকে বিদায় করে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

কানাডার রক্ষণ ভেঙে মরক্কোর জোড়া গোল

হাকিমি-উনাহি ম্যাজিক, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিড মরক্কোর

জার্মানির নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ইয়ুর্গেন ক্লপ

যশোরে কারখানায় চুরির সময় যুবক আটক

মাউশির নতুন সিদ্ধান্তে বদলাচ্ছে শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট

কবি সুফিয়া কামালের ছেলে শাহেদ কামাল মারা গেছেন

মোরেলগঞ্জে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখম,বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ

পুলিশ কর্মকর্তা সেজে প্রবাসীর স্ত্রীর ৩০ লাখ টাকা আত্মসাত আটক ১

দিরাই হত্যা মামলার আসামি সিলেটে গ্রেপ্তার

মণিরামপুরে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের গণমিছিল

মহেশপুরে কয়েকটি হিন্দু পরিবারের ভারত গমনের দাবি, নীরবে সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ

মণিরামপুরে মদ ও ইয়াবাসহ আটক ২

ঝিকরগাছায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মোবাইল ফোনে অপরাধীচক্রের লাগাম টানছে সরকার

যশোর সংবাদ পত্র হর্কাস ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন / সভাপতি রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক জিলহাজ

মাদারীপুরে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান

মণিরামপুরে চেক ডিজঅনার তিন মামলায় প্রধান শিক্ষক জামালের তিন বছরের জেল

প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

X