
আগামীকাল রোববার (০৫ জুলাই) রাতে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে। হাইভোল্টেজ এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। তবে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ১৯৯৮ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ, যেখানে নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে।
সেই ম্যাচের জয়ের অন্যতম নায়ক কেতিল রেকলডাল মনে করেন, ইতিহাস আবারও নরওয়ের পক্ষেই কথা বলতে পারে।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে নরওয়েকে নকআউট পর্বে তুলেছিলেন রেকলডাল। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্রাজিলের ওপরই সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপ থাকবে।
তার ভাষায়, নরওয়ের জন্য এই বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই সফল। অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য জয় ছাড়া অন্য কোনো ফলাফল জাতীয় হতাশা হিসেবে দেখা হতে পারে।
রেকলডালের বিশ্বাস, ১৯৯৮ সালের সেই পরাজয়ের স্মৃতি ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মানসিকতায় কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, পরিসংখ্যানও নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে।
এখন পর্যন্ত দুই দলের চারটি আন্তর্জাতিক মোকাবিলায় ব্রাজিল একবারও জয় পায়নি। ফলে ইতিহাসের চাপও বহন করতে হবে সেলেসাওদের।
অনেকেই ভাবছেন ১৯৯৮ সালের সেই জয় নরওয়ের জন্য বড় পাথেয় হবে। তবে রেকলডাল মনে করেন, এরলিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড বা আন্তোনিও নুসার মতো নতুন প্রজন্মের তারকারা অতীতে বাস করেন না। তিনি বলেন, ‘হালান্ড বা ওডেগার্ড ৯৮-এর ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন বলে আমার মনে হয় না। তারা এখন ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোতে খেলেন, সেরা কোচদের অধীনে তৈরি হয়েছেন। তাদের ওই ঐতিহাসিক জয়ের অতীতের ভূতের ওপর নির্ভর করতে হয় না; তারা নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্বাস রাখেন।’
রেকলডালের মতে, বর্তমান নরওয়ে দল ১৯৯৮ সালের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময়। সেবার নরওয়ে মূলত রক্ষণাত্মক এবং পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু বর্তমান দলের আক্রমণভাগের ধার ব্রাজিলকে কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
বিশ্বকাপের পন্ডিত এবং আলেসুন্দ এফকে-র বর্তমান ম্যানেজার হিসেবে রেকলডাল নিজের ভবিষ্যৎবাণীও দিয়েছেন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের ফলাফল হবে ২-১, নরওয়ের পক্ষে। ফুটবলে ইতিহাস প্রায়ই নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে।’
কাগজে-কলমে ব্রাজিলই এই ম্যাচের ফেভারিট। তবে যদি হালান্ড, ওডেগার্ড ও তাদের সতীর্থরা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেন, তাহলে ডালাসের মাঠ থেকে জন্ম নিতে পারে আরেকটি বিশ্বকাপের রূপকথা।
এখন দেখার বিষয়, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ইতিহাস বদলাতে পারে, নাকি ১৯৯৮ সালের স্মৃতি আবারও নতুন করে উজ্জ্বল করবে নরওয়ে।
মন্তব্য করুন