
বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক কানাডাকে পাত্তাই দিল না গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাই-ইনটেনসিটি এবং নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের পসরা সাজিয়ে কানাডাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। গোলদাতাদের দুর্দান্ত ফিনিশিং, আশরাফ হাকিমির মাস্টারক্লাস অ্যাসিস্ট এবং গোলপোস্টের নিচে ইয়াসিন বুনোর 'দ্য ওয়াল' হয়ে ওঠার ওপর ভর করে বিশ্বমঞ্চের শেষ আট নিশ্চিত করল আফ্রিকান এই পরাশক্তি।
প্রথমার্ধের লড়াই : কানাডার আক্রমণ বনাম বুনোর অবিশ্বাস্য প্রাচীর
ম্যাচের প্রথমার্ধে স্বাগতিক কানাডা ঘরের মাঠের দর্শকদের গগনবিদারী করতালির সুবিধা নিয়ে মরক্কোর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ডরা তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো (Yassine Bounou) আরও একবার প্রমাণ করলেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ভাবা হয়।
বুনোর ডাবল সেভ: ম্যাচের ২৪তম মিনিটে কানাডার উইঙ্গারের নেওয়া বুলেট গতির শট প্রথম দফায় পা দিয়ে ফিরিয়ে দেন বুনো। ঠিক তার পরের মুহূর্তেই রিবাউন্ড থেকে আসা ক্লোজ-রেঞ্জ হেডারটি অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দী করেন তিনি। প্রথমার্ধে বুনো যদি এই প্রাচীর না তুলতেন, তবে ম্যাচের গল্পটা ভিন্ন হতে পারত। তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স মরক্কোর রক্ষণভাগকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়।
৫০ মিনিট : হাকিমি-উনাহি ম্যাজিকে ডেডলক ভাঙল মরক্কো
প্রথমার্ধের গোলশূন্য ড্রয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই কৌশলে বদল আনেন। মরক্কো উইংভিত্তিক আক্রমণ বাদ দিয়ে মাঝমাঠের দখল নিতে শুরু করে। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ।
কৌশল: ডান প্রান্তে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ঠিক বাইরে একটি ফ্রি-কিক পায় মরক্কো। সবাই যখন ভাবছিল আশরাফ হাকিমি সরাসরি শট নেবেন, ঠিক তখনই তিনি চতুরতার আশ্রয় নেন।
উনাহির গোল: হাকিমি বলটি সরাসরি বক্সে না ভাসিয়ে আলতো পাসে বাড়িয়ে দেন বক্সের ঠিক প্রান্তে আনমার্কড অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা মিডফিল্ডার আজ্জেদিন উনাহির (Azzedine Ounahi) দিকে। বল পাওয়া মাত্রই ডিফেন্ডারদের ব্লক এড়াতে চমৎকার এক মাটি কামড়ানো কোনাকুনি শট নেন উনাহি। কানাডার গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ বোকা বানিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। মরক্কো এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে।
৮০ মিনিট: কাউন্টার অ্যাটাক ও রাহিমির দুর্দান্ত ফিনিশিং
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর স্বাগতিক কানাডা সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে ওঠে। এতে তাদের রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। মরক্কো এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক (পাল্টা আক্রমণ) থেকে কানাডার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন সুফিয়ান রাহিমি (Soufiane Rahimi)।
কৌশল ও ফিনিশিং: মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্স-চেরা এক লং পাস পান রাহিমি। নিজের গতিকে কাজে লাগিয়ে কানাডার দুজন ডিফেন্ডারকে গতিতে পরাস্ত করে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। গোলরক্ষক এগিয়ে আসলেও অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় জাদুকরী এক চিপ শটে (Chipped Shot) বল কানাডার জালে জড়ান রাহিমি। ৩-০ গোলের এই লিড কানাডাকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয় এবং মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে।
মন্তব্য করুন