
ফুটবল বিধাতা যে কখন কার মুখে হাসি ফোটাবেন আর কাকে কাঁদাবেন, তা আগে থেকে অনুমান করা অসম্ভব। প্রথমার্ধে দারুণ দাপট দেখিয়ে এগিয়ে থাকা মিশর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এক চরম ভাগ্যের পরিহাসের শিকার হলো। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত আত্মঘাতী (Own Goal) গোলের খেসারত দিতে হলো ফারাওদের। আর এই উপহার পাওয়া গোলের সুবাদে কোনো কষ্ট ছাড়াই ১-১ ব্যবধানে ম্যাচে সমতায় ফিরেছে অস্ট্রেলিয়া।
প্রথমার্ধের দাপট ও মিশরের লিড
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল মোহাম্মদ সালাহর মিশর। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে সালাহর বাড়ানো শর্ট পাস থেকে ইমান আশুরের নিখুঁত হেডে লিড নিয়েছিল তারা। প্রথমার্ধ জুড়ে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে রেখেছিল ফারাওরা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ায় সালাহ শিবিরের নকআউট নিশ্চিতের স্বপ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছিল।
৫৫ মিনিটের সেই হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত
বিরতির পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে আক্রমণ বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে উইং ধরে অস্ট্রেলিয়ার এক মিডফিল্ডার মিশরের ডি-বক্সে বিপজ্জনক এক ক্রস বাড়ান।
ডিফেন্সের চরম ভুল বোঝাবুঝি: বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে মিশরের রক্ষণভাগের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের মধ্যে এক মুহূর্তের জন্য ভুল বোঝাবুঝি হয়।
নিজেদের জালেই বল: দুর্ভাগ্যবশত মিশরীয় ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বলটি গোললাইনের ভেতরে চলে যায়। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়েও নিজের দলের খেলোয়াড়ের করা সেই আত্মঘাতী গোল ঠেকাতে পারেননি। গ্যালারিতে থাকা মিশরীয় সমর্থকরা মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান, আর বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে সকারুজ শিবির।
ম্যাচ এখন ওপেন, স্নায়ুর চরম পরীক্ষা
এই আত্মঘাতী গোলের পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ১-১ সমতায় ফেরার পর মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। তারা এখন লিড নেওয়ার জন্য একের পর এক আক্রমণ শানাচ্ছে। অন্যদিকে, নিজেদের ভুলে গোল হজম করা মিশর ধাক্কা সামলে উঠে আবারও সালাহর পায়ের জাদুতে লিড নেওয়ার চেষ্টা করছে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ কোন দিকে মোড় নেয়, তা বলা মুশকিল।
মন্তব্য করুন