
শক্তির বিচার কিংবা সোনালী ইতিহাস—কোনো কিছুতেই ব্রাজিলের ধারেকাছে নেই নরওয়ে। তবে ফুটবল মাঠে ব্রাজিলের জন্য এক অদ্ভুত ধাঁধার নাম ইউরোপের এই দেশটি। চারবারের দেখায় একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি সেলেসাওরা।
তবে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহারণে এবার সেই ‘নরওয়ে-জুজু’ কাটাতে মরিয়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অতীতের এই ব্যর্থতার বৃত্তকেই এবার জয়ের বাড়তি প্রেরণা হিসেবে দেখছেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দগলাস সান্তোস।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিউ ইয়র্কে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায় (এএম) ম্যাচটি শুরু হবে।
কাগজে-কলমে ব্রাজিল পরিষ্কার ফেবারিট হলেও দল দুটির মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান বেশ চমকপ্রদ।
মোট ম্যাচ: ৪টি
নরওয়ের জয়: ২টিতে
ড্র: ২টি
ব্রাজিলের জয়: ০
নরওয়ের এই দুই জয়ের মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল তারা। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে নরওয়ের জয়সূচক গোলটি করেছিলেন শেটল রেকডাল। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রেকডাল দাবি করেছেন, বারবার নরওয়ের কাছে পরাস্ত হওয়ার সেই পুরোনো ভয় এবারও তাড়া করবে ব্রাজিলকে, আর তাতেই আবারও হোঁচট খাবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।
রেকডালের এমন মনস্তাত্ত্বিক চাপ অবশ্য উড়িয়ে দিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান লেফট-ব্যাক দগলাস সান্তোস। দীর্ঘ ৯ বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর গত বছর দলে ফিরে দারুণ ছন্দে আছেন জেনিত সেইন্ট পিটার্সবার্গের এই তারকা। চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চার ম্যাচের প্রতিটিতেই শুরুর একাদশে খেলেছেন তিনি।
ম্যাচটি নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে সান্তোস বলেন, "আমার মনে হয়, নরওয়েকে কখনো হারাতে না পারাটাই আমাদের জন্য বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। আশা করি, আমাদের জন্য খুব স্পেশাল এই ম্যাচে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারব এবং জয় নিয়ে খুশি মনে মাঠ ছাড়তে পারব।"
অতীতের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে ব্রাজিল কি পারবে নরওয়ের বিপক্ষে তাদের প্রথম জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে? নাকি নরওয়ে ধরে রাখবে তাদের অপরাজেয় রেকর্ড? উত্তর মিলবে সোমবার মাঠের লড়াইয়েই।
মন্তব্য করুন