
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজার নামাজ আজ অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকরা এ অনুষ্ঠানে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জানাজার কয়েক ঘণ্টা আগেই গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রধান চত্বর শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানায়, শনিবার থেকেই ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। হাজারো মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। জানাজার পর মরদেহ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন শহরে শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর খামেনির মরদেহ আরও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে বৃহস্পতিবার দাফনের জন্য মরদেহ ইরানের মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে আনা হবে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতা ছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে, সেই বিপ্লবের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি।
খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তার শাসনামলের শুরুতেই এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।
ইরাক-ইরান যুদ্ধ চলাকালে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে উপস্থিত হননি।
দীর্ঘ শাসনামলে আলি খামেনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধাসামরিক বাহিনী শক্তিশালী করা এবং বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা কৌশল উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন