
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রথম জানাজা তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ জানাজায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষের সমাগম হয় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ইরানের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নামাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রধান চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
জানাজার পর সোমবার রাজধানী তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর মরদেহ আরও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য ইরাকের নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার দাফনের উদ্দেশ্যে মরদেহ ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন।
পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। অন্যদিকে, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আলি খামেনি।
খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তার শাসনামলের শুরুতেই এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।
ইরাক-ইরান যুদ্ধ চলাকালে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
তার নেতৃত্বে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়। একই সঙ্গে বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশল আরও শক্তিশালী করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার শাসনামলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিক্ষোভ। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: আইআরএনএ
মন্তব্য করুন
০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম