শনিবার
১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

৪৫ বছর পর পুনর্জীবন পেল কলাপাড়ার ঐতিহাসিক স্বনির্ভর খাল

কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
৪৫ বছর পর পুনর্জীবন পেল কলাপাড়ার ঐতিহাসিক স্বনির্ভর খাল

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর প্রাণ ফিরে পেল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী-মিঠাগঞ্জ দুই ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল কাটা স্বনির্ভর খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে।

ফলে দীর্ঘ দিনের মৃত প্রায় খালটিতে আবারও শুরু হয়েছে পানির প্রবাহ। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে বালীয়াতলী বাজারসহ আশপাশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

কৃষকদের এই দুর্ভোগ লাঘবে বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পরপরই খাল খনন কর্মসূচি সূচনা হয়েছে। স্বনির্ভর খাল খননের মাধ্যমে উপকূলীয় মানুষ বর্ষা মৌসুমীর শুরুতেই ভয়াবহ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেলো।

১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করে স্থানীয়রা বলেন, ৪৫ বছর আগে এই খাল খনন করা না হলে ১৪ টি গ্রামে ধানসহ কৃষি উৎপাদন হতো না। সেদিন তারাও জিয়াউর রহমানের সাথে খাল কাটায় অংশ নিয়ে ছিলেন বলে জানান। শহীদ প্রেসডেন্ট জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন। তার পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এই খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন সুত্রে জানা গেছে, এক কোটি ৩৪ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা ব্যয়ে মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৪৫০ মিটার খাল খনন শুরু হয়েছে। খালের গভীরতা হবে ১০ ফুট ও উপরের প্রস্থ হবে ৭০ ফুট।

স্থানীয় প্রবীনদের ভাষ্য মতে, ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সফরে এসে এ স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী দুই ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের দুই তীরে রয়েছে ১৪টি গ্রাম। ৪৫ বছর আগের খনন করা সেই খাল এখন দখল, দূষণ ও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। শীত মৌসুমে মিঠা পানির সংরক্ষণের অভাবে দুই ইউনিয়নের ৫ হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। লবণ পানিতে মারা যেত শতশত হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু। কর্মহীন থাকতেন শতশত কৃষক।

সরেজমিন ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এই খাল দিয়ে নৌকা, ট্রলার চলাচল করত। সে সময় শুকনো মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং বর্ষায় স্বাভাবিক পানিপ্রাবহ বজায় রাখতে এসব স্লুইজগেট ব্যবহার করা হবে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হতে থাকে এবং বিভিন্ন স্থানে দখলের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে।

পরে বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন উদ্যোগে সম্প্রতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়েরর মাধ্যমে এক কোটি ৩৪ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা ব্যয়ে মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৪৫০ মিটার খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। খালের গভীরতা হবে ১০ ফুট ও উপরের প্রস্থ হবে ৭০ ফুট। জিয়াউর রহমানের বিজড়িত দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পটুয়াখালীর কলাপাড়ার স্বনির্ভর খাল আবার পুনঃখনন। দীর্ঘদিন পর খালে পানির প্রবাহ ফিরে আসায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সফরে এসে এ স্বনির্ভর খালটি খনন করে ছিলেন। আমরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বনিভর খালের খালের মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৪৫০ মিটার খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। বাকি অংশ আবারো ও আমরা ডিউ লেটার পাঠিয়েছি। বরাদ্ধ হলে কাজ শুরু করা হবে।

মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী গ্রামবাসী সাংবাদিক ও বিনপির সিনিয়র নেতা ঝুনু কবির রফিক পলায়ন, ইসমাইল গাজী বলেন, এ খাল খননের মাধ্যমে তারা জীবন নতুন কর্মসংস্থান পেয়েছেন, তেমনি আবার নতুন করে কৃষি আবাদ করতে পারবেন। চাষাবাদ করতে পারবেন মাছ। গবাদি পশু আর লবণ পানির কারণে মারা যাবে না। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ সঙ্কটে ছিলেন কৃষকেরা। খনন সম্পন্ন হলে কয়েকশ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এটি এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করে কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন খান দুলাল ও ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মনিবর রহমান খন্দকার বলেন, যুগ যুগ ধরে এ খাল পুনঃখননের দাবি করে আসছিল এলাকার মানুষ। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে হাল খননের পরিবর্তে উল্টো দখল হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাওছার হামিদ বলেন, দীর্ঘদিন পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তিতে ছিলেন। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটি আবার সচল হয়েছে। বর্তমানে খালে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে, যা এলাকার কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য পটুয়াখালী-৪ আলহাজ¦ এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনীয় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলছে। সে লক্ষে আমার নির্বাচনীয় এলাকাকে কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সে লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আমি আরো কিছু খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সচল করবো।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেধাবী তরুণদের জন্য সুযোগ ও অনুপ্রেরণার আহ্বান জাইমা রহমানের

কুয়েতে ইরানের হামলা, পানি শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষতি

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ শুরু ইসরায়েলের

দিরাইয়ে অপহৃত কলেজছাত্রী উদ্ধার, প্রধান আসামি আইয়ুব নূর গ্রেপ্তার

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে বহিষ্কার: সোমনাথ দে

মৃত্যুর পর মাগুরায় ১০ বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

মহেশপুরে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ঝিকরগাছা ফায়ার স্টেশনের অ্যাম্বুলেন্স স্থানান্তরে ক্ষোভ, দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি

যশোরে যুবদল নেতা রুবেল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সামিনুর গ্রেপ্তার

ঢাকাস্থ যশোর সাংবাদিক ফোরামের ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

অভয়নগরে ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে গৃহবধূ নিখোঁজ

চ্যাম্পিয়নশিপ রিং পাচ্ছে বিশ্বকাপজয়ী দল

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মঞ্চ ভেঙে পড়ল, অক্ষত অর্থমন্ত্রী

এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত: মাগুরা সেরা, রামেক তৃতীয়

মণিরামপুরে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ভেঙ্গে পড়া সড়ক ও ব্রীজ পরিদর্শনে এমপি এনামুল

৪৫ বছর পর পুনর্জীবন পেল কলাপাড়ার ঐতিহাসিক স্বনির্ভর খাল

বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর

যশোরে প্রয়াত বিএনপি নেতা নূর-উন-নবীর স্মরণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

যশোরে ৭৮ এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য, হাইজিন প্যাক ও নতুন পোশাক বিতরণ

বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটে রেকর্ড, সর্বোচ্চ কত?

X