
মুসলমানদের জন্য জুমার দিন সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় দিন। পবিত্র এই দিনে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি এমন কিছু আমলের কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো একাগ্রচিত্তে আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি নামাজ আদায় করে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যদি কোনো মুসলিম সেই সময়ে নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করবেন।" এরপর তিনি হাতের ইশারায় সময়টির স্বল্পতার ইঙ্গিত দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪০০)
আরেক হাদিসে এসেছে, "সে সময়টি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
এছাড়া বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ জাদুল মাআদ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, জুমার দিন আসরের নামাজের পর দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা উত্তম।
নিচে জুমার দিনে পাঠ করার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া তুলে ধরা হলো—
১. দুনিয়া-আখেরাতে কল্যাণ লাভের দোয়া
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাহ, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা আজাবান্নার।’ অর্থ : ‘হে আমার রব! আপনি আমাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচান।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০১)
২. উত্তম জীবন যাপনের দোয়া
اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুক্বা ওয়াল আফাফা ওয়াল গেনা।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে হেদায়াত কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা তাকওয়া কামনা করি এবং আপনার কাছে নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ তথা সামর্থ্য ও সচ্ছলতা কামনা করি। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭২১, তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৮৯)
৩. মা-বাবাসহ সকল মুমিনের জন্য দোয়া
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
উচ্চারণ : ‘রব্বানাগ-ফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’
অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে আপনি সেই দিন ক্ষমা করে দিবেন; যেই দিন হিসাব কায়েম করা হবে।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৪১)
জুমার দিনের বরকতময় সময়গুলো বিশেষভাবে কাজে লাগানো একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আসরের নামাজের পর বেশি বেশি দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফার করার চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের ফজিলত যথাযথভাবে কাজে লাগানোর এবং এসব দোয়া নিয়মিত পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন