
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা এলাকায় যুবদল নেতা রুবেল হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সামিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের শওকত আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে যশোর শহরের কাঠালতলা এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় বাঘারপাড়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে নিহত রুবেল হোসেনের স্ত্রী হাজেরা খাতুন চারজনকে আসামি করে বাঘারপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন তেলিধ্যান্যপুরা গ্রামের রাব্বি হোসেন, তার ভাই মারুফ হোসেন এবং যশোর সদর উপজেলার গহরপুর গ্রামের আসিফ হোসেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাঘারপাড়া থানার এসআই ফিরোজ হোসেন জানান, এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি সামিনুর রহমান ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিনি যশোর শহরের কাঠালতলা এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে ডিবি পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে খাজুরা তেলপাম্প-সংলগ্ন ট্রাকের ওজন মাপার স্কেল কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করছিলেন রুবেল হোসেন। এ সময় প্রধান আসামি রাব্বি হোসেনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রুবেলের মরদেহ নিয়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটায়।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামিনুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন