
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান দেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সম্ভাবনা, সংগ্রাম এবং তাদের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত প্রকাশ করেন।
পোস্টে জাইমা রহমান জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে তার। তিনি বলেন, স্কাউটিং, বিজ্ঞানমেলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সঙ্গীত, শিল্পকলা, ভাষা শিক্ষা এবং কোডিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব শিক্ষার্থীর অসাধারণ অর্জন রয়েছে।
তিনি তাদের মেধা, জানার আগ্রহ, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ় মনোবলের প্রশংসা করে লেখেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তারা প্রতিদিন নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
এদেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে নানা বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই। কিন্তু তাদের অনেকের অল্প বয়সেই বড় বড় বাধার মুখোমুখি হতে হয়। কারো রয়েছে আর্থিক সংকট, কারো ওপর পরিবারের দায়িত্ব। ভিন্নভাবে সক্ষম অনেককেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে হয়। আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পায় না। কখনো কখনো মনে হয়, সফল হওয়া ছাড়া তাদের সামনে যেন আর কোনো পথ নেই। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কিংবা নিজের সমাজের জন্য তাদের সফল হতেই হবে। এত অল্প বয়সে এমন দায়িত্ব পালন সহজ নয়।
পোস্টে তিনি বাবা-মা, শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও সমাজের ইতিবাচক ব্যক্তিদের রোল মডেল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আমি আমাদের রোল মডেলদের কথা ভাবছিলাম। আমাদের শিশুরা কাদের দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে? কারা তাদের দেখায় যে জীবনে কত কিছু অর্জন করা সম্ভব? পথ কঠিন হয়ে গেলে কারা তাদের সাহস দেয়? রোল মডেল হতে হলে কাউকে বিখ্যাত কিংবা নিখুঁত হতে হবে না। তিনি হতে পারেন এমন একজন বাবা বা মা, যিনি কখনো হাল ছাড়েন না। এমন একজন শিক্ষক, যিনি কোনো শিক্ষার্থীর ভেতরের সম্ভাবনা দেখেন। এমন একজন প্রশিক্ষক, যিনি শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মূল্য শেখান। কিংবা দূর থেকে দেখা এমন কেউ, যাকে দেখে কোনো তরুণ মনে সাহস পাবে এবং ভাববে, "আমিও এটা করতে পারব।"
জীবনে বড় হবার পথে ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে জাইমা লেখেন, অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য আমাদের তরুণদের সব সময় বাংলাদেশের বাইরেই তাকাতে হবে না। বাংলাদেশে কাটানো এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি এমন অনেক অনুপ্রেরণীয় মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, যাদের সাহস, মেধা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা সত্যিই গর্ব করার মতো। তারা এমন মানুষ, যাদের গল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা সহজেই নিজেদের মিল খুজে পেতে পারে। আমি আশা করি, সামনে এমন আরও অনেক মানুষের সাথে আমার পরিচয় হবে।
তিনি আরও লেখেন, তবে শুধু অনুপ্রেরণা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। আমাদের এমন সুযোগও তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু তার মেধা ও দক্ষতা বিকাশ করতে পারবে। শিক্ষা গ্রহণ, খেলাধুলায় এগিয়ে যাওয়া কিংবা কোনো নতুন দক্ষতা শেখার জন্য একজন শিক্ষার্থীর যেন ভাগ্য, পরিচিত মানুষ বা পরিবারের ত্যাগের ওপর নির্ভর করতে না হয়।
পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাতে, পরামর্শ দিতে এবং তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে আমাদের মধ্যে থেকে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
একজন সঠিক মানুষের উৎসাহ এদেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সে ব্যাপারে জাইমা লিখেছেন, আমরা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারি না, একজন তরুণের জীবনে আমাদের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। বিশ্বস্ত কোনো প্রবীণ মানুষের সামান্য উৎসাহও তার মনে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। সামান্য একটু সহানুভূতি বা বিশ্বাসও একটি তরুণ জীবনকে অনুভব করাতে পারে যে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তার স্বপ্নেরও মূল্য রয়েছে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে জাইমা রহমান সমাজের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি লেখেন, প্রশ্নটি এই নয় যে বাংলাদেশে মেধাবী ও যোগ্য তরুণ-তরুণী রয়েছে কি না—এর প্রমাণ প্রতিনিয়তই মিলছে। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, যখন তাদের সবচেয়ে বেশি আমাদের প্রয়োজন, তখন আমরা কি সত্যিই তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট করছি?
মন্তব্য করুন