
সালাদ, ভর্তা কিংবা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহৃত টমেটো শুধু স্বাদই বাড়ায় না, বরং এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ একটি সবজি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ভরপুর টমেটো নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, টমেটোতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপেন রয়েছে, যা শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। এছাড়া এতে ক্যালোরির পরিমাণও খুব কম। একটি মাঝারি আকারের টমেটোতে প্রায় ২৫ ক্যালোরি থাকে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এটি হতে পারে খাদ্যতালিকার একটি উপযোগী উপাদান।
টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফোলেট, ফাইবার, ক্রোমিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও লাইকোপেন দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি মাঝারি আকারের টমেটোতে প্রায় ৩০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম থাকে, আর এক কাপ টমেটোর রসে পাওয়া যায় প্রায় ৫৩৪ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম। এই খনিজ উপাদান হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পেশীর কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষণা অনুযায়ী, টমেটোর লাইকোপেন রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া বিটা-ক্যারোটিন মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টমেটোতে থাকা লাইকোপেন প্রস্টেট, ফুসফুস, পাকস্থলী, কোলন, রেক্টাম, খাদ্যনালী, মুখগহ্বর, স্তন ও সার্ভিক্স ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়; বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত।
তবে প্রতিদিন টমেটো খাওয়া গেলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে কিডনি রোগ বা ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টমেটো খাওয়াই নিরাপদ।
মন্তব্য করুন