
যশোরের ঝিকরগাছা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি অন্যত্র স্থানান্তর করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জরুরি রোগী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা অ্যাম্বুলেন্সটি সরিয়ে নেওয়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনেকটা গোপনীয়তার সঙ্গে ঝিকরগাছা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি নড়াইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে স্থানান্তর করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন এলাকাবাসী। জানা যায়, গত ১৬ জুন অ্যাম্বুলেন্সটি ঝিকরগাছা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. শামসুর রহমান বলেন, তিনি যোগদানের আগেই অ্যাম্বুলেন্সটি স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, গত ২২ জুন তিনি ঝিকরগাছা স্টেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে প্রথমে ঝিকরগাছা স্টেশনের অ্যাম্বুলেন্সটি মাগুরায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে মাগুরার পরিবর্তে নড়াইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটি অদলবদল করা হয়। বর্তমানে সেটি নড়াইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনেই রয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
অ্যাম্বুলেন্স স্থানান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে ঝিকরগাছা ফায়ার স্টেশনে অ্যাম্বুলেন্সটি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ফায়ার স্টেশনের তুলনায় অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা কম থাকায় ঝিকরগাছা থেকে এটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝিকরগাছা স্টেশনে আবার একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় দেড় একর জমির ওপর ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত ঝিকরগাছা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি যশোর জেলার দ্বিতীয় ফায়ার স্টেশন। সে সময় দেশের অনেক জেলাতেই ফায়ার স্টেশন ছিল না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ পাটের মোকাম হিসেবে ঝিকরগাছার বাণিজ্যিক গুরুত্ব, পাশাপাশি জেলা সদর, মনিরামপুর, চৌগাছা ও সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এখানে ফায়ার স্টেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এই স্টেশনটি যশোর-বেনাপোল মহাসড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা এবং জরুরি রোগী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছে। অবিভক্ত বাংলার সময় ১৯৪৭ সালে যশোরে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স গঠনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬২ সালে ঝিকরগাছা ফায়ার স্টেশন কার্যক্রম শুরু করে।
স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থ ও জরুরি সেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঝিকরগাছা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা হোক।
মন্তব্য করুন