
নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় কলম্বিয়া। বলের দখল, আক্রমণের ধার এবং সুযোগ সৃষ্টিতে আধিপত্য দেখিয়ে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। জোন আরিয়াসের একমাত্র গোলে এগিয়ে গেলেও ঘানার গোলরক্ষক আতি জিগির অসাধারণ পারফরম্যান্স না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি তৈরি করেছিল ঘানাই। নিজেদের অর্ধে জেমস রদ্রিগেসের ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে থমাস পার্তেই দূরপাল্লার শট নেন। বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলেও সতর্ক থাকতে হয় কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ভার্গাসকে।
এরপর দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় কলম্বিয়া। তবে অষ্টম মিনিটেই চোটে বড় ধাক্কা খায় দলটি। ওপোকুর সঙ্গে সংঘর্ষে উরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন জন কর্দোবা। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন লুইস সুয়ারেজ।
অন্যদিকে লুইস দিয়াজকে থামাতে গিয়ে চোট পান ঘানার ডিফেন্ডার মারভিন সেনায়া। কিছুক্ষণ খেলার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ১৩তম মিনিটে তাকে তুলে আলিদু সাইদুকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন ঘানার কোচ।
এরই মধ্যে ১২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থামাতে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কলম্বিয়ার জোন আরিয়াস।
দুই মিনিট পরই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে লুইস সুয়ারেজের প্রথম ক্রস সেমেনিও ব্লক করলেও ফিরতি বলে আবারও ক্রস করেন তিনি। লুইস দিয়াজের হালকা হেড বলের দিক বদলে দেয়, আর দূরের পোস্টে অপেক্ষায় থাকা জোন আরিয়াস প্রথম ছোঁয়ায় জালে বল জড়িয়ে কলম্বিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি কলম্বিয়া। দিয়াজ, জেমস রদ্রিগেস ও মোহিকার সমন্বিত আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে ঘানার রক্ষণ। ২০তম মিনিটে পুয়ের্তার পাস থেকে দিয়াজ ঘুরে শট নিলেও সেটি সহজেই ধরে ফেলেন আতি জিগি।
প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখলে ছিল কলম্বিয়ার সুস্পষ্ট আধিপত্য। তাদের দখলে ছিল ৭৭ শতাংশেরও বেশি সময় বল। অন্যদিকে ঘানা মূলত রক্ষণ সামলে সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। তবে শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি তারা।
হাইড্রেশন ব্রেক বিরতির পর ঘানা কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। সেমেনিওর দূরপাল্লার শট পুয়ের্তা কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন। এরপর উইলিয়ামসের প্রচেষ্টায় ম্যাচে নিজেদের প্রথম কর্নার পেলেও সেটি থেকে কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আফ্রিকার দলটি।
অন্যদিকে কলম্বিয়া সুযোগ তৈরি করেই গেছে। ৩৯তম মিনিটে জেমস রদ্রিগেসের চিপ পাস সিবোর গায়ে লেগে লুইস দিয়াজের কাছে পৌঁছায়। কাছ থেকে নেয়া দিয়াজের প্রথম শট অল্পের জন্য নিকট পোস্ট মিস করে সাইড নেটে লাগে।
বিরতির আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে যোগ করা সময়ে। ডান প্রান্ত থেকে ড্যানিয়েল মুনিয়োজের নিখুঁত ক্রসে জোহান মোহিকা দুর্দান্ত হেড করেন। কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ডানদিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে বল ফিরিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক আতি জিগি। তার অনবদ্য সেভে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় কলম্বিয়া এবং ঘানাও ম্যাচে টিকে থাকে।
নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের সঙ্গে যোগ করা অতিরিক্ত ছয় মিনিটেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে কলম্বিয়া। যদিও দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়নি তারা। ফলে প্রথমার্ধ শেষে জোন আরিয়াসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নেস্তর লরেনসোর দল। অন্যদিকে গোলরক্ষক আতি জিগির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচে ফেরার আশা ধরে রাখে ঘানা।
মন্তব্য করুন