
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনের পথও তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
পেজেশকিয়ানের মতে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য ইতোমধ্যে এই চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও বিস্তারিত বিষয় পরে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘন করে বা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে তেহরান প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চুক্তির অগ্রগতির ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ হরমুজ প্রণালির অবাধ ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল বা অতিরিক্ত ফি আদায় করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য এই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন