
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ শুরু করেছিল, সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসার দায় ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন বিলম্বিত না হওয়ার যুক্তিতে সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণে বিএনপির অবস্থানকে তিনি ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ বলে মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনটি প্রধান দায়িত্ব ছিল। এর মধ্যে রয়েছে—জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং তার আগের ১৭ বছরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় আসা ব্যক্তিরাই পরে সংসদে দাঁড়িয়ে নির্বাচন পেছানো এড়ানোর যুক্তিতে সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণের কথা বলেছেন। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক দায় দীর্ঘদিন বহন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি এখনো তাদের অবস্থানের রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি। তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব আত্মসমালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাবেক এই চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, ব্যাংকিং খাত, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসংক্রান্ত যেসব অধ্যাদেশ ও আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই পরে ল্যাপস করা হয়েছে। এসব আইন বাতিল করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
তিনি বলেন, এসব আইন পুনর্বহাল না করলে জাতি আবারও সংকটে পড়তে পারে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই জাদুঘর চালু করা এবং গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, বই ও গবেষণা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় করতে হবে। জুলাই শুধু একটি আন্দোলনের নাম নয়, এটি বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। সেই চেতনা ধরে রেখেই রাষ্ট্র সংস্কারের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।
মন্তব্য করুন