শুক্রবার
১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ন্যাটোর ঐক্য নিয়ে হতাশ ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ এএম
ন্যাটোর ঐক্য নিয়ে হতাশ ট্রাম্প

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুললেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয়, ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়া এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ন্যাটোর ঐক্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প অন্যান্য ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে আঙ্কারায় পৌঁছান। সম্মেলনের মূল অধিবেশন বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ৭৭ বছর পুরোনো এই সামরিক জোট এমন এক সময়ে বৈঠকে বসেছে, যখন ইউরোপের নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তুরস্কে সম্মেলন না হলে তিনি হয়তো এতে অংশই নিতেন না। এরদোয়ানকে তিনি নিজের ‘বন্ধু’ এবং ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থনের অভাব নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বারবার মিত্রদের পাশে দাঁড়ালেও সংকটের সময় তারা একইভাবে সহযোগিতা করেনি।

তিনি বলেন, ইতালি, জার্মানি এবং ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই প্রশ্ন তোলেন, মিত্ররা পাশে না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র কেন তাদের নিরাপত্তায় শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে।

অন্যদিকে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেন এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন।

প্রতিরক্ষা ব্যয় এবারের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি হলো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি। ট্রাম্পের চাপের মুখে সদস্য দেশগুলো এ বিষয়ে নতুন অঙ্গীকার করছে।

সম্মেলনের আগে প্রকাশিত ন্যাটোর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জোটের মাত্র পাঁচটি সদস্য দেশ তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৫ শতাংশ মূল প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বছর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-এ হওয়া এক চুক্তির মাধ্যমে এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। ওই চুক্তিতে অস্ত্র ক্রয়, সেনা সদস্য ও অন্যান্য মূল প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য আগের ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়।

এ ছাড়া সদস্য দেশগুলো সাইবার নিরাপত্তা জোরদারসহ প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে জিডিপির আরও ১.৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

আঙ্কারায় শীর্ষ সম্মেলনের আগের দিন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে ‘স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা’ দাবি করেন। তবে এ পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে, তাকে তিনি ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার এক প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুটে বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প দিনরাত কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানকেও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রুটে বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এসব দেশ ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।’

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রু হুডিস্টিয়ানু বলেন, ট্রাম্পের ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোকে বুঝতে বাধ্য করছে যে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তাদের আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে ন্যাটোর তথ্য অনুযায়ী, এখনো বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ ২০২৬ সালে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির মাত্র প্রায় ২ শতাংশ ব্যয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিতর্ক উসকে দিয়ে বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।’

গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার এই অবস্থান ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন এবং ইউরোপজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

আঙ্কারায় ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, তিনি আশা করেন ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে এবং মেনে নেবে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিতে চাওয়ার কথা বলে আসছে। তবে আমি আশা করি, সবাই এটাও জানে যে এমনটি কখনোই ঘটবে না।’

ফ্রেডেরিকসেন আরও জানান, এবারের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে গ্রিনল্যান্ড, আর্কটিক অঞ্চল বা ‘হাই নর্থ’ নিয়ে কোনো আলোচনা নেই।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুতে এগেদে ফেসবুকে লিখেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে সেখানকার জনগণই।

তিনি বলেন, ‘এভাবেই সব সময় হয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও এভাবেই হবে।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলেনস্কি, যিনি আবারও ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ফেসবুকে জানান যে আঙ্কারায় তিনি এস্তোনিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে সই করেছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চুক্তির মাধ্যমে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, উদ্ভাবনী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন, নিয়মিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা প্রমাণিত ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া জার্মানি, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও কানাডার সঙ্গেও আরও কয়েকটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নরওয়ে ঘোষণা দিয়েছে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়াতে তারা ৩০০ কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোনার (প্রায় ৩০ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার) সহায়তা দেবে।

এদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলো ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭ সালেও ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ন্যাটো সম্মেলন শুরুর আগে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন সংঘাতের অবসান ‘খুব শিগগিরই’ হবে।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় উভয় পক্ষই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। এত সময় লেগে যাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক, তবে আমি বিশ্বাস করি শেষ পর্যন্ত একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে।’

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় হবে : আইনমন্ত্রী

নওগাঁয় বজ্রপাতে প্রাণ গেল দুই কৃষকের

যশোরে প্রেমিকার কপালে প্রকাশ্যে সিঁদুর, যশোর আদালত চত্বরে তোলপাড়

ফ্রান্স-মরক্কো একাদশে দুই পরিবর্তনের আভাস

স্পেনকে হারিয়ে নতুন চমকের অপেক্ষায় বেলজিয়াম

ব্রাজিলের পতন, এখনও ঘোর কাটেনি হলান্ডের

চীনে জুতার কারখানায় আগুন, নিহত ২৮

বীজ সরবরাহের আশ্বাসে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরে কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ যুবক আটক

জালালপুর স্কুলে নিয়োগে জালিয়াতি, প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা, ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদীর পানি

সুনামগঞ্জে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সিলেট থেকে গ্রেপ্তার

মহেশপুরে ৬০ পরিবারে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ

স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ তিন বনদস্যুর

অভয়নগরে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

অভয়নগরে উৎপাদন বাড়াতে ৬ চাষির মধ্যে মৎস্য উপকরণ বিতরণ

খুলনা কারাগার থেকে বন্দি পলাতক, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঢাকার দূষণ নিয়ে উদ্বেগ: / ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

তাজুল ইসলাম / রাষ্ট্র সংস্কার থেকে সরে আসার দায় বিএনপিকে বহন করতে হবে

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

X