
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত এই হামলা পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফা হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে মার্কিন হামলায় নৌ ও বিমানবাহিনীর অন্তত আট সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির সময় অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া মার্কিন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমানগুলো আবারও মধ্যপ্রাচ্যে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের ইঙ্গিত এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীও সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে সংঘাত কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছেন।
এদিকে, কুয়েত ও বাহরাইনেও হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি, পশ্চিমা কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন