
যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং একতরফা দাবির কাছে ইরান কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘালিবাফ বলেন, ‘দাদাগিরি এবং জোরপূর্বক আদায়ের যুগ এখন শেষ।’ তাঁর দাবি, চাপ সৃষ্টি বা হুমকির মাধ্যমে কোনো ইতিবাচক ফল অর্জন সম্ভব নয় এবং তেহরান এমন নীতির কাছে কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করছে। এসব পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন ইরানের এই শীর্ষ আলোচক।
ঘালিবাফের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইরানের প্রস্তাবিত সমন্বয়মূলক উদ্যোগ উপেক্ষা করা, নতুন সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত রাখা, ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ, দক্ষিণ ইরানে সামরিক হামলা পরিচালনা এবং লেবাননে চলমান ইসরায়েলি অভিযানে সমর্থন দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, এসব পদক্ষেপ শুধু দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে থাকবে এবং কোনো ধরনের বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
শীর্ষ এই কূটনীতিক আমেরিকার বিরুদ্ধে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-এর বেশ কয়েকটি ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ করার সরাসরি অভিযোগ এনেছেন। তাঁর মতে ওয়াশিংটন একের পর এক আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক চুক্তি ভঙ্গ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক্সে দেওয়া তার বার্তায় আমেরিকার প্রধান প্রধান লঙ্ঘনের একটি বিবরণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান যে প্রণালীতে ইরানের পক্ষ থেকে আনা বিশেষ সমন্বয়গুলোকে অমান্য করা, নতুন করে আরও সামরিক হামলার অনবরত হুমকি দেওয়া, ইরানের ওপর তেলের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় বহাল করা, দক্ষিণ ইরানে আগ্রাসী সামরিক হামলা চালানো এবং লেবাননের ওপর জায়নবাদীদের চলমান আগ্রাসনে ক্রমাগত সমর্থন জোগানোই হলো আমেরিকার করা প্রধান প্রধান চুক্তির লঙ্ঘন।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন