
শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে বিএনপির একাংশের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা ওই বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবি জানানো হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু বিএনপি নেতাকর্মী স্লোগান দিয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে মিছিল করছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পালং মডেল থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার (১৫ জুন) আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সিকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে এবং তার সহযোগীদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় গোপন মিছিল ও সরকারবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগও তদন্তাধীন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনা।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো রাজনৈতিক দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, মিছিলটি বিএনপির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয় বলে দাবি করেছেন বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর। তিনি জানান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি দলকে বিতর্কিত করতে এ মিছিল আয়োজন করেছে। বিষয়টি জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন