
দুদিনের অতিভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ১৮ ঘণ্টা ধরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। ফলে তিস্তার বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলের বন্যার পানিও কমতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ৩ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১০ মিটার। যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৫ সেন্টিমিটার নিচে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সোমবার তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সোমবার রাত ১০টার দিকে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। ফলে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে ডুবে যায় চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, আবাদি জমি। কয়েক শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করে তিস্তাপাড়ে। সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও কমে গিয়ে বেলা ১২টায় পানি বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। কমতে শুরু করেছে ঘরবাড়ির ও নিচু এলাকার পানিও।
তিস্তাপাড়ের গোবর্ধন গ্রামের আবজাল হোসেন বলেন, গতরাতে পানি বেড়ে চরাঞ্চলের বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তবে সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগ কমেনি পানিবন্দি পরিবার গুলোর। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় ঘরের আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে। কাদায় ভরে গেছে মাটির ঘরের মেঝে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার জানান, গেল মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের কাজ করা হয়েছে। এতে নদী মূল স্রোতধারায় সরে গেছে। যার কারণে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয় তেমন প্লাবিত হয়নি। নদী শাসনের এমন কাজ আরও ১০ কিলোমিটার করা প্রয়োজন। তা করা সম্ভব হলে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয় প্লাবিত হবে না।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান বলেন, তিস্তা নদীর পানি রাতে বাড়লেও সকালে কমে যায়। ফলে দুপুর থেকেই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। বন্যার সময়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে ত্রাণ হিসেবে চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। তারা প্রয়োজন মনে করলে সেখান থেকে বিতরণ করবেন।
মন্তব্য করুন