
আবারও বাড়লো মুরগির দাম। যশোরের বাজারে দুই সপ্তাহ স্থিতিশীল থাকার পরে আবারও মুরগির দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। দুই সপ্তাহ দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুই দিন ধরে ব্রয়লার মুরগি আবারও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০টাকা কেজিতে। যা দুই দিন আগেও বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। এর পাশাপাশি বেড়েছে সোনালী ও লেয়ার মুরগির দামও। যা সাধারণ ক্রেতাদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০টাকা কেজিতে। যে সোনালী মুরগি গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ২৭০থেকে ২৮০টাকায়। লেয়ার মুরগি ৩৬০টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৩৩০টাকায়। দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। খাসির মাংস এক হাজার ২০০টাকা কেজি। এদিকে মাছের বাজারে বেড়েছে ইলিশ মাছের দাম। ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায়। কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকায়। প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৮০ টাকায়। সিলভার কার্প ১৩০ থেকে ২০০ টাকা। পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ২০০ টাকা। রুই ২২০ থেকে ৩৫০, কাতলা ২৮০ থেকে ৩৫০, গ্রাসকার্প ২৫০ থেকে ৩২০, বোয়াল ৪০০ থেকে ৭০০, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০, ভেটকি ৬০০ থেকে ৮০০, মৃগেল ২৫০, শোল ৭০০, টেংরা ৫০০ থেকে ৬০০, পার্শে ৮০০ থেকে ৯০০, পুঁটি ২৫০, পাবদা ও টাকি ৩৫০, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০, কৈ ২২০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৮০০, চিংড়ি ৬০০ থেকে এক হাজার ৪০০টাকা কেজি। প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকায়। সোনালী মুরগির ডিম ৫০, দেশি মুরগির ডিম ৬০ টাকা। হাঁসের ডিম ৭০টাকা। কোয়েল পাখির ডিম ১২থেকে ১৪টাকা হালি। মুরগি বিক্রেতা মিজান গাজী বলেন, বাজারে সব ধরণের মুরগিরই সরবরাহ কম, তাই দামও বেড়েছে। এর মধ্যে লেয়ার মুরগির সংকট কিছুটা বেশি। অপর দুই বিক্রেতা শফিয়ার রহমান ও সাদ্দাম হোসেনও একই কথা বলেন। রেলরোড এলাকার আবু জাহেদ বলেন, আমিষ বলতে সাধারণ মানুষ ডিম ও ব্রয়লার মুরগির ওপরে নির্ভরশীল। তাই এর দাম বেড়ে গেলে বড় সংখ্যক মানুষের সমস্যা। মোল্লাপাড়ার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে সংসার চালানো খুব কঠিন। পাইপপট্টির সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, মাঝে মাঝেই বাজার একটি আতঙ্ক মনে হয়, তবু সবারই বাজারে আসতে হয়। অন্যদিকে বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে সবজিতে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বরবটি, শসা, কচুরলতি, কাকরোল, করলা, ঝিঙে ৬০টাকা কেজি। কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পটল ২০, ধুন্দল, চাল কুমড়া, পেঁপে, ঢেড়স ৩০, লাউ ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙ্গা, কাঁচকলা, মিষ্টি কুমড়া ৪০, উচ্ছে ৮০থেকে ১০০, টমেটো ১২০টাকা, বিটকপি ১৪০, গাজর ১৫০টাকা কেজি। কাঁচামরিচ ৮০টাকা কেজি। আলু ২৫ থেকে ৩০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারে প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮থেকে ৫২টাকা কেজিতে। মিনিকেট ৬২ থেকে ৭৮ টাকা। কাজললতা ৬০ টাকা। আঠাশ ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। বাসমতি ৬৮ থেকে ৮০টাকা। নাজিরশাইল ৮২ থেকে ৯০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মশলার বাজারে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭০০থেকে এক হাজার টাকা কেজিতে। দারুচিনি ৪৫০ থেকে ৫৮০ টাকা। এলাচ চার হাজার ৮০০ থেকে ছয় হাজার টাকা কেজি। গোলমরিচ এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। লবঙ্গ এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। রসুন ৬০ থেকে ১৬০ টাকা। আদা ১২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি। মুদি বাজারে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০৮ থেকে ২১০ টাকায়। বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০টাকা লিটার। চিনি ১১০ থেকে ১৪০ টাকায়। লবণ ৪০টাকা। খোলা আটা ৪৫ টাকা কেজি। প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা। মসুরের ডাল ৯০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। মুগ ডাল ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা। ছোলার ডাল ১০০ টাকা। বুট ডাল ৬০।
মন্তব্য করুন