
মিনিট দশেকের ঝড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, কিংবা পাল্টা জবাবে কাতারের লড়াই—সব নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে শেষ হাসি হাসল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। দুর্দান্ত এক জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল তারা; অন্যদিকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল কাতার।
সিয়াটলে বুধবার রাতে ‘বি’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের স্নায়ুচাপের ম্যাচটিতে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বসনিয়া। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করা বসনিয়া প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পর মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোলে এগিয়ে যায়। ২৯তম মিনিটে সতীর্থের পাস ধরে, প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে বসনিয়াকে এগিয়ে নেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার আলেবেগোভিচ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তার দ্বিতীয় গোল। ৩৪তম মিনিটে জেকোর দেওয়া পাস কাতার ডিফেন্ডার সুলতান আল-ব্রাকের পায়ে লেগে দুর্ভাগ্যবশত আত্মঘাতী গোল হয়।
৪২তম মিনিটে কাতারকে ম্যাচে ফেরান ফরোয়ার্ড হাসান। বাঁ দিক থেকে আসা পাসে গোলমুখে পড়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে দারুণ এক টোকায় ব্যবধান কমান তিনি।
তবে ৮০তম মিনিটে কাতারের রক্ষণভাগের দুর্বলতায় আলগা বল পেয়ে জোরাল শটে বসনিয়ার জয় নিশ্চিত করেন মিডফিল্ডার এর্মিন মাহমিচ।
তবে এর আগে ৩৪তম মিনিটে জেকোর শট এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কাতারের পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত ডিফেন্ডার পেদ্রো মিগেলের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত না হলে ম্যাচের স্কোরলাইন আরও ভিন্ন হতে পারত।
৪৮ দলের এই বৈশ্বিক আসরে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুটি দল সরাসরি এবং সেরা আটটি তৃতীয় দল জায়গা পাবে নকআউট পর্বে। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়ায় সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে যাওয়ার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বসনিয়ার।
ম্যাচ শেষে বসনিয়ার কোচ সের্গেই বার্বারেস ও ফুটবলারদের বাঁধভাঙা উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, ইতিহাস গড়ার কতটা কাছে দাঁড়িয়ে আছে তারা!
মন্তব্য করুন