
টানা দ্বিতীয় এবং ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। সেই অভিযানের পরবর্তী ধাপে আগামী রোববার সকালে কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। মুরাত ইয়াকিনের অধীনে সুইজারল্যান্ড এবার নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ অভিযান উপহার দিচ্ছে। যদিও অতীতের পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই হারেনি আলবিসেলেস্তেরা।
উত্তর আমেরিকার মাটিতে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা তিন জয়ে গ্রুপ 'জে' চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।
এই সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে তিনি ইতোমধ্যেই ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার। গ্রুপ পর্বে ৬ গোলের পর নকআউট পর্বে আরও ২ গোল যোগ করেছেন তিনি। মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তার গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোল আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।
বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন মেসি। বর্তমানে তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১।
তবে টানা ৫ ম্যাচ জিতলেও আর্জেন্টিনার এই নকআউট পর্বের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। রাউন্ড অব থার্টি-টু-তে ডেবিউট্যান্ট কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে কোনোমতে পার পায় তারা। এরপর শেষ ১৬-র ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ৩-২ গোলের এক মহাকাব্যিক জয় তুলে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে, মুরাত ইয়াকিনের অধীনে সুইজারল্যান্ড দলটিও নীরবে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান পার করছে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইসরা। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার টানা দুটি নকআউট ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়েছে তারা।
রাউন্ড অব থার্টি-টু-তে আলজেরিয়াকে ২-০ ব্যবধানে ক্লিনিকাল ফুটবল খেলে বিদায় করার পর, শেষ ১৬-র ম্যাচে দলের উদীয়মান তারকা জোহান মানজাম্বির অনুপস্থিতি সত্ত্বেও কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে তারা। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলা মানজাম্বি বসনিয়া ও সহ-আয়োজক দলের বিপক্ষে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে গ্রুপ সেরা করেছিলেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও এই অভিজ্ঞ সুইস রক্ষণভাগ ও কৌশলের বড় পরীক্ষা দিতে হবে।
মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস: আর্জেন্টিনার একচ্ছত্র আধিপত্য বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দল এর আগে মাত্র দুবার মুখোমুখি হয়েছে, যার দুটিতেই শেষ হাসি হেসেছে দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তিরা:
১. ১৯৬৬ বিশ্বকাপ (ইংল্যান্ড): গ্রুপ পর্বের ম্যাচে লুইস আরটাইম এবং এরমিন্ডো ওনেগার গোলে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২. ২০১৪ বিশ্বকাপ (ব্রাজিল): রাউন্ড অব ১৬-এর সেই অত্যন্ত ক্লোজ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে আনহেল দি মারিয়ার করা একমাত্র গোলে সুইসদের হৃদয় ভেঙে কোয়ার্টারে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।
সামগ্রিকভাবে দুই দলের ৭ বারের দেখায় আর্জেন্টিনা জিতেছে ৫টিতে এবং ড্র হয়েছে ২টি ম্যাচে (যার মধ্যে মেসির ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিকও শামিল)।
কানসাস সিটির এই হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে যে দল জয়ী হবে, তারা আগামী ১৫ জুলাই আতলান্তায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।
এখন দেখার বিষয়, লিওনেল মেসি কি আরও একটি স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুলতে পারেন, নাকি সুইজারল্যান্ড নতুন ইতিহাস রচনা করে বিশ্বকাপে আরেকটি বড় চমক দেখায়।
মন্তব্য করুন