
এক রাতের ভারী বর্ষণে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার সবজিক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাঁধাকপি ও ফুলকপির চারা উৎপাদনকারী চাষিরা। পাশাপাশি ধানের বীজতলাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকায় পটল, পুঁইশাক, বরবটি, উচ্ছে, ঢেঁড়স, বেগুন, কচুরমুখী ও কচুর লতিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে। পহেলা আষাঢ়ের পর থেকে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে অধিকাংশ সবজিক্ষেত পানির নিচে চলে যায়। কৃষকদের আশঙ্কা, আরও দুই-এক দিন ভারী বৃষ্টি হলে উঁচু জমির পটল ও উচ্ছের ক্ষেতও জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে নিচু জমির অনেক সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
চুড়ামনকাটির দোগাছিয়া গ্রামের কৃষক মিলন আক্তার জানান, বৃষ্টির পানিতে তার এক বিঘা পটল ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে গাছ পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বরবটি চাষি দেলোয়ার গাজী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে গাছের ফুল ঝরে যাচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে গাছও মারা যেতে পারে, যা তার জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।
আব্দুলপুর গ্রামের চারা উৎপাদনকারী কৃষক টিটো জানান, এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে বাঁধাকপি ও ফুলকপির চারা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ইতোমধ্যে নতুন করে বপন করা বীজ অনেক চাষিরই নষ্ট হয়ে গেছে।
কাশিমপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম বলেন, মাঠের পর মাঠ পানিতে থৈথৈ করছে। ধানের বীজতলাগুলোও সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চুড়ামনকাটি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তরুণ বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
কৃষিবিদ ইউসুফ আলী বলেন, দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকলে সবজি গাছের গোড়া নরম হয়ে যায়। পরে রোদ উঠলে দ্রুত পচন ধরে গাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আষাঢ়ের এ বৃষ্টিতে সবজি চাষিদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এক দিনের ভারী বৃষ্টিতেই নিম্নআয়ের অনেক মানুষ ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন।
মন্তব্য করুন