
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বৈরী আবহাওয়া ও টানা ৬ দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে পৌর শহরের তিনটি ওয়ার্ডে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে উপজেলার পাঁচ শতাধিক মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরে টানা বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে বের হতে না পারায় দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মৎস্য অধ্যুষিত জিউধরা ও বহরবুনিয়া ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক মৎস্য ঘের অতিবৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ঘের মালিকরা।
পানগুছি নদীর তীরবর্তী কাঠালতলা, গাবতলা, বারইখালী, হোগলাবুনিয়ার পাঠামারা ও বদনীভাঙ্গা এলাকায় অতিরিক্ত পানির চাপ ও ভারী বর্ষণের কারণে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার কয়েকশ পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সরালিয়া, পশ্চিম সরালিয়া, আদর্শপাড়া, নব্বইশী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বালুর রাস্তা, সরকারি সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, এসআই ক্যাডেট একাডেমি ও সোনালী ব্যাংক সড়কে পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক খানাখন্দে পরিণত হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। পায়ে হেঁটে চলাচল যেমন কষ্টকর হয়ে পড়েছে, তেমনি ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে খাউলিয়া ইউনিয়নের সন্ন্যাসী, মধ্য বরিশাল; মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাঠালতলা, গাবতলা; বারইখালীর উত্তর সুতালড়ী, কাশ্মীর, তুলাতলা; বলইবুনিয়ার শ্রেণিখালী; পুটিখালীর সোনাখালী; পঞ্চকরণের দেবরাজ, নতুন বাজার; বহরবুনিয়ার উত্তর ফুলহাতা, বহরবুনিয়া ও ঘষিয়াখালীসহ নিম্নাঞ্চলের ২৫টি গ্রামের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাবান্নাও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বহরবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর ফুলহাতা গ্রামের রাকিব খান, নাজমুল নাছিম রাখি, ঘের মালিক নান্না শেখ ও উজ্জল ফকির এবং জিউধরা ইউনিয়নের রাজ্জাক শেখ, নিকুঞ্জ সুতারসহ একাধিক ঘের মালিক জানান, তারা ঋণ নিয়ে বাগদা, গলদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঘেরে চাষ করেছেন। কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ঘের তলিয়ে যাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আবহাওয়া আরও কয়েকদিন এমন থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বর্ষণের কারণে নিচু এলাকার কিছু ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ঘেরের সংখ্যা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হাবিবুল্লাহ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ইউনিয়ন পর্যায়ের নিম্নাঞ্চলের যেসব বাড়িঘর তলিয়ে গেছে, সেসব এলাকার খোঁজ নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৌর শহরের যেসব ওয়ার্ডে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে দ্রুত পানি অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেসব এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য করুন