
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টিতে পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বসতভিটার আঙিনা, বাগান ও নিচু জমিতে পানি জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে কৃষক ও মৎস্যচাষিরা বলছেন, চলতি মৌসুমে এই বৃষ্টি তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
শুক্রবার সরেজমিনে কেশবপুর পৌরসভা, পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনা, কাঁচা রাস্তা ও নিচু জমিতে পানি জমে আছে। কোথাও কোথাও বাগান ও পুকুরপাড়ও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হতে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গড়ভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, “রাতভর বৃষ্টির কারণে বাড়ির আঙিনা ও সামনের রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। সকালে বাজারে যেতে অনেক কষ্ট হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বৃষ্টি হলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।”
পাঁজিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “এই বৃষ্টিতে পাটের অনেক উপকার হয়েছে। পাট কাটার পর জাগ দেওয়ার জন্য খাল-বিল ও খানা-খন্দে পর্যাপ্ত পানি জমেছে।”
গৌরীঘোনা ইউনিয়নের মাছচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে ঘেরের পানির পরিমাণ অনেক কম ছিল। এই বৃষ্টিতে পানির স্তর বেড়েছে। মাছের জন্যও ভালো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে আরও কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলে নিচু এলাকার ঘেরগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।”
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টিতে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি ফিরলেও জলাবদ্ধতার কারণে শিশু, বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষ বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক কাঁচা রাস্তা কাদায় পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খাল-নালা ভরাট এবং অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দ্রুত খাল-নালা পরিষ্কার এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সব মিলিয়ে রাতভর এই বৃষ্টি জনজীবনে সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও কৃষি, পাট চাষ ও মৎস্য খাতের জন্য এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন