
চলতি বছরের বসন্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোপন শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনটি মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা ছিল ইসরাইলের অন্যতম কৌশল। তবে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করে, আরাঘচি বা গালিবাফ নিহত হলে পুরো কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেঙে পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সতর্কবার্তা পাঠায়। এতে জানানো হয়, ইরানের শীর্ষ নেতারা সম্ভাব্য ইসরাইলি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে এই দুই নেতাকে ইসরাইলের সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর তাদের ওপর হামলা হলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারত।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য এক হলেও পরে দুই দেশের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র যখন একটি রাজনৈতিক সমাধান ও শান্তি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নেয়, তখন ইসরাইল ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, প্রক্সি বাহিনী ধ্বংস এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই অটল ছিল।
জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর মার্চ মাসের এক প্রতিবেদনের তথ্যও উল্লেখ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সেখানে বলা হয়, ইসরাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় আব্বাস আরাঘচি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার পর সাময়িকভাবে তাদের নাম সেই তালিকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন অন্তত গালিবাফের নাম ওই তালিকায় থাকার তথ্য জানতে পেরে ইসরাইলকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
এদিকে এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়ার সময় ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক সতর্কতা নেয়া হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা ছিল, আলোচনাকে ভণ্ডুল করতে ইসরাইল আরাঘচি বা গালিবাফকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।
সে কারণে পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। সফরের সময় পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানকে সীমান্ত পর্যন্ত নিরাপত্তা দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরানে ফেরার পথে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থা গালিবাফের বিমানকে সতর্ক করে জানায় যে, ইসরাইল হামলার পরিকল্পনা করেছে এবং দুটি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ইরাক সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে মাশহাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে ইরানি প্রতিনিধিদল সড়কপথে দীর্ঘ যাত্রা শেষে তেহরানে পৌঁছায়।
মন্তব্য করুন