
৫৮ দিন সাগর নদীতে মাছ ধরা বন্ধ অবরোধ চলাকালীন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জেলেদের জীবন জীবিকা নির্বাহে অভাবনীয় দূর্ভোগে পড়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে হিম শিম খাচ্ছেন জেলে পল্লীর মানুষেরা।
স্থানীয় জেলেদের দাবী খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি বিকল্প কর্মসংস্থানে বিনা সুদে লোনের ব্যবস্থা সহ পুন: বাসনের দাবী। মৎস্য মন্ত্রানালয় সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের প্রতি।
শনিবার (০২ মে) সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গাবতলা ও খাউলিয়া ইউনিয়নের খাউলিয়া গ্রাম এ দুটি গ্রামে প্রায় ২ শতাধিক জেলে পেশার ওপর নির্ভশীল জেলে পরিবার রয়েছেন।
এ পেশার মানুষের জীবন যাত্রার মান আজও পরিবর্তন হয়নি। মহজনদের কাছ থেকে দাদনের টাকা ও বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে লোন নিয়ে বছরের পর বছর দেনাগ্রস্থ হচ্ছেন। ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন সারাদেশে ৫৮ দিন সাগর ও নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা অবরোধ চলছে।
অবরধ চলাকালীন জেলে পল্লীর জেলেরা জাল নৌকা মেরামত কাজে ব্যস্থ সময় পাড় করছেন। দৈনন্দদিন সংসারের আয় না হলেও ব্যায় কিভাবে মিটাবে এ নিয়ে দূশ্চিন্তায় রয়েছেন জেলেরা। বিকল্প আয়ের নেই কোন কর্মসংস্থান, সরকারীভাবে মৎস্য অধিদপ্তরের সহায়তায় খাদ্য তালিকায় চাল বরাদ্ধ হলেও তালিকা থেকে বাধ পড়েছেন প্রকৃত অনেক জেলেরা।
অপেশাদার সুবিধাভোগীরা অন্তারভূক্ত হয়েছেন এ তালিকায়। খাদ্য সহায়তার আওতায় প্রাপ্ত সুবিধা বরাদ্ধকৃত চাউল আনুপাতিক হারে অপ্রতুল। কথা হয় গাবতলা গ্রামের জেলে আব্দুল গপ্ফার হাওলাদার, ফোরকান তালুকদার, মোশারেফ তালুকদার, খাউলিয়া গ্রামের সেলিম শেখ সহ একাধিক জেলেরা বলেন বাপ দাদার পেশা হিসাবে এ পেশায় রয়েছি কয়েক যুগ ধরে । পরবর্তী বংশধরাও অনেকে যুক্ত হয়েছেন এ পেশায়।
এখন সংসার চালাতে খুব কষ্ঠ হচ্ছে, ৫৮ দিনের অবরধ চলছে। এ সময় কিভাবে সংসারে খাবার জোগাব না এনজিওদের লোনের কিস্তি দিব। গাবতলা গ্রামের জেলে পল্লী প্রায় ১৫০ পরিবার এনজি দের নিকট থেকে লোন দেনাগ্রস্থ। এ দেনা পরিশোধ করে যেতে পারব কি যানি না। আবার মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নেওয়া টাকা প্রতিবছরই নতুন নতুন করে দেনা হচ্ছি। সরকারীভাবে বছরের যে চাউল পাই তা থেকে সংসার চলে না।
বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য নামে মাত্র কয়েক জনকে বিনা মূল্যে বকনা বাছুর দিলেও মৎস্য অফিস তা সবাইকে দিতে পারছে না। সরকারের কাছে আমাদের দাবী বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বিনা সুদে টাকা, বরাদ্দকৃত চাউল বৃদ্ধি, প্রকৃত জেলেদের তালিকায় অন্তভূক্তকরণ সহ পুন: বসানের ব্যবস্থা করার।
এ সম্পর্কে সিনিয়র উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার বলেন, সাগড় ও নদীতে ৫৮ দিনের অবরধ কার্যক্রম চলমান থাকায় নদী ও সাগরে জেলেদের মাছ ধরা সম্পূর্ন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে অবরোধকালীন সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা চাউল বিভিন্ন খাদে প্রদান করা হয়ে থাকে।
এ উপজেলায় ৯ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ শ ঝাটকাআহরণ থেকে বিরোতকারী জেলেদের বছরে ২ বার ১৬০ করে চাউল প্রদান করা হয়ে থাকে।
এছাড়াও ২২ দিন সাগরে মা ইলিশ ধরা বন্ধ। এ তালিকায় ২৫ কেজি করে চাউল প্রায় ১ হাজার জেলে পরিবার পেয়ে থাকেন।
এ সব জেলে পরিবারের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ইতি মধ্যে সরকারীভাবে বরাদ্ধে গত বছর ৩২টি বকনা বাছুর বিতারণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন