
যশোরের আরবপুরে বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে হামলার ঘটনায় জামিনে মুক্তি পেয়ে এবার আসামিপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
শনিবার বেলা ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া সায়াদ হোসেন। কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
এর আগে গত ২ জুন একই সম্পত্তি নিয়ে ‘বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মালিক বাবলু তালুকদার হামলার অভিযোগ এনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে সায়াদ হোসেন জানান, তার পিতা প্রয়াত আব্দুস সালাম সরদার (হবি সরদার) জীবদ্দশায় কোনো সম্পত্তি বিক্রি বা দলিল করে যাননি। পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তারা যশোর কোতোয়ালী থানার ৯৩ নম্বর পুরাতন কসবা মৌজার ১৬৪ দশমিক ৫০ শতক জমির মালিক হন। এই মূল্যবান সম্পত্তিতে বহুতল ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মৎস্য ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাবলু তালুকদার আদতে তাঁদের জমির একজন ভাড়াটিয়া মাত্র। পিতার স্নেহধন্য হওয়ার সুবাদে বাবলু বিভিন্ন সময়ে তাঁর পিতার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা মৃত্যুর আগে তার পিতা পরিবারের সদস্যদের বলে গেছেন।
সায়াদ হোসেনের অভিযোগ, পিতার মৃত্যুর পর আসাদুজ্জামান, বাবলু তালুকদার, আনিসুর রহমান, ইয়াসিন এবং একেএম আতিকুজ্জামান ছানিসহ একটি প্রভাবশালী চক্র জমিটি দখলের পাঁয়তারা শুরু করে। চক্রটির হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার্থে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত সংশ্লিষ্ট জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে আপিল আদালতেও রায় তাঁদের পক্ষেই আসে। বর্তমানে তাদের দাবি করা একটি ‘সন্দেহজনক দলিল’ বাতিলের দাবিতে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে পৃথক দুটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাবলু তালুকদার দীর্ঘদিন ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকার পর একপর্যায়ে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং ভুয়া মালিকানা দাবি করেন। লিগ্যাল নোটিশ ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পরও তিনি জায়গা ছাড়েননি।
সর্বশেষ গত ২৪ ও ২৬ মে পৈতৃক জমিতে প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে বাবলু ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায় এবং নির্মাণকাজে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সায়াদ হোসেন কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসআই সাইফুল চরম পক্ষপাতমূলক আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি বাবলু তালুকদারকে দিয়ে উল্টো তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করান। শুধু তাই নয়, সায়াদ হোসেন, তাঁর ভাই ও শ্বশুরকে থানায় ডেকে নিয়ে ওই মামলায় আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসিমা লাবিবা, সাহিদা সালাম, বিল্লাল হোসেন, জিয়াউল হক, জহুরা হক, শহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, শামসুর রহমান ও আসাদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ জুন একই সম্পত্তি নিয়ে ‘বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মালিক বাবলু তালুকদার এই পক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, সায়াদ হোসেনের বাবার কাছ থেকে তারা জমি কিনেছেন। তার পক্ষে সকল বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর সায়াদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ওই জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা হলে সায়াদসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম