
খুলনায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ভূত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম। সহকর্মীদের মতে, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে নগরীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি মহল তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অপরাধ দমনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই কিছু অসাধু গোষ্ঠীর বিরাগভাজন হয়েছেন তিনি।
তৈমুর ইসলাম খুলনার একটি রাজনৈতিকভাবে পরিচিত পরিবারের সন্তান। ছাত্রজীবনে আজম খান কমার্স কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি বৈষম্য ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন।
জানা যায়, ২০০১ সালে চাকরিজীবনের শুরুতেই নানা জটিলতার কারণে তিনি চাকরি হারান। পরবর্তীতে আইনি লড়াই শেষে ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ পুনর্বহাল হন। চাকরিতে ফেরার আগে তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও সফলভাবে যুক্ত ছিলেন।
পুনর্বহালের পর দীর্ঘ সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কন্ট্রোল রুমভিত্তিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) থেকে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এরপর সারদা পুলিশ একাডেমি, হাইওয়ে পুলিশ, রিজার্ভ অফিসসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে দক্ষতার পরিচয় দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় তিনি হবিগঞ্জ জেলায় কর্মরত ছিলেন। পরে বরিশালে দায়িত্ব পালন শেষে একই বছরের নভেম্বর মাসে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগে যোগ দেন। খুলনায় দায়িত্ব গ্রহণের পর সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, চোর ও ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তৈমুর ইসলাম বলেন, কর্মজীবনে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি বেনজীর আহমেদকে মাত্র দুই থেকে তিনবার দেখেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তাদের মধ্যে কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি পরিবেশ ও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তার। বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির গাছ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহী তৈমুর ইসলাম খুলনার হাদিস পার্ক, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, সারদা পুলিশ একাডেমি এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরল প্রজাতির গাছ রোপণে ভূমিকা রেখেছেন।
২০২১ সালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত অবস্থায় একটি সরকারি বৃক্ষায়ন প্রকল্পে বিরল প্রজাতির গাছ সংগ্রহ ও রোপণ কার্যক্রমেও অংশ নেন তিনি। তার দাবি, ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও পুলিশ পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তার ভূমিকা তাকে সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
মন্তব্য করুন
১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৫ পিএম