
রাজশাহীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন রেকর্ডভুক্ত জমিকে অর্পিত সম্পত্তি (ভিপি) হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভাগীয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মহামান্য হাইকোর্টের ছয় মাসের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জে ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রাজপাড়া থানার চণ্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল ওহাব।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. আব্দুল ওহাব জানান, তার মৃত মাতা রহিমা খাতুনের নামে চণ্ডিপুর মৌজায় (এস.এ খতিয়ান নং- ৯৮, দাগ নং- ৬৭৮/৭৫৯) .১৫৩৭ একর বসতবাড়ি রয়েছে। যা পরবর্তীতে আর.এস জরিপেও (খতিয়ান নং- ৩৫২, দাগ নং- ৬৫২) তার মায়ের নামেই শুদ্ধভাবে প্রকাশিত ও রেকর্ড হয়। এস.এ বা আর.এস কোনো খতিয়ানেরই মন্তব্য কলামে এটি ভিপি বা অন্য কোনো সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ নেই।
কিন্তু ২০২০ সালের ২২ জুন রাজশাহী জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ওই সম্পত্তিটিকে সরকার বা জেলা প্রশাসক ভিপি কেস (৪৮/৬৭, ১০/৮০- চণ্ডিপুর) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। ওই জমিটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভাগীয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য প্রদান করা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর আব্দুল ওহাব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে সেখানকার কিছু কর্মচারী তাকে খারাপ ব্যবহার করে অফিস থেকে বের করে দেন।
এরপর তিনি বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে জমির খাজনা দিতে গেলে তারা তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিভিল ডিভিশনে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৮৩০৭/২০২১)। আদালত এসি ল্যান্ডকে (বোয়ালিয়া) খাজনা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশের পর খাজনা দিতে গেলে ২০২৩ সালের ৩১ মে এসি ল্যান্ড তাকে জানান যে, নালিশি জমিটি (নামজারি কেস নং- ৮৯৩৪/৯-১/২২-২৩) ইতোমধ্যে দুদকের নামে নামজারি করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তার আর কিছু করার নেই।
পরবর্তীতে নিজের সম্পত্তি রক্ষায় আব্দুল ওহাব হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন (নং- ২০৬৪৮/২৫) দায়ের করেন। শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট নালিশি ওই জমির ওপর ৬ মাসের জন্য স্থিতিবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার আদেশ দেন।
আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, তার আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং বোয়ালিয়ার এসি ল্যান্ডকে হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও, তারা তা উপেক্ষা করে সম্পত্তিতে অবৈধভাবে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।
এ বিষয়ে আইনি সহায়তার জন্য রাজপাড়া থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিডি গ্রহণ না করে সেটিকে কেবল একটি অভিযোগ হিসেবে নেন। অন্যদিকে, গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) প্রধান প্রকৌশলীকে অবগত করা হলে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাননি বলে দাবি করেন।
সর্বশেষ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-কে হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে জানালে তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেন। তিনি কেবল জানান যে, জমির যাবতীয় কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ই বিষয়টি দেখভাল করবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আব্দুল ওহাব তার পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মন্তব্য করুন