
১৬ বছর পর নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। তারা মুখোমুখি হচ্ছে গত দুই আসরে টানা দুটি ফাইনাল খেলা ফ্রান্সের। এই দলকে গত দুই বছরে ইউরো ও নেশনস লিগ সেমিফাইনালে হারিয়েছিল লা রোজারা। শেষ চার নিশ্চিত করে তাদের তারকা খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল বলেছিলেন, ফ্রান্সের উচিত স্পেনকে ভয় পাওয়া।
ইয়ামালের এই হুঙ্কারের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স। তাদের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ফ্রান্স বিন্দুমাত্র ভীত নয়। তবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও তাদের প্রায় নিখুঁত রক্ষণভাগ সম্পর্কে তারা বেশ সচেতন।
স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার খোঁজে পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে একমাত্র গোল হজম করেও শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১৮ সালের বিজয়ী ও চার বছর আগের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স স্পেনকে খুব ভালো করেই চেনে। কারণ উয়েফা ইউরো ২০২৪-এর শেষ চারে এবং গত বছরের নেশনস লিগের সেমিফাইনালে তারা স্পেনের কাছে হেরেছিল।
এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের সেন্টার-ব্যাক কোনাতে বলেন, ‘আপনি কাউকেই ভয় পেতে পারেন না। আমরা এখন আমাদের সেরা প্রস্তুতি নেব এবং আশা করি শেষ পর্যন্ত ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’
এই দলে মূল একাদশের সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলছেন দায়ো উপামেকানো ও উইলিয়াম সালিবা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে অল্প সময়ের জন্য মাঠে নামা কোনাতে আরও বলেন, ‘স্পেন অসাধারণ একটি দল, তাদের প্রচুর ব্যক্তিগত দক্ষতা সম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। তাই লামিন (ইয়ামাল) একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও আমরা কেবল একজন খেলোয়াড়ের ওপর মনোযোগ দেব না।’
টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ ফাইনালের দিকে চোখ রাখছে। ফরাসিরা গত সাতটি বিশ্বকাপের মধ্যে চারটিতে ফাইনালে পৌঁছেছে। তবে কোনাতে জানিয়েছেন, ফরাসিরা পরবর্তীতে কী হতে পারে তা নিয়ে এখনই ভেবে সময় নষ্ট করছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা মাটিতে পা রাখছি। আমরা সেই ফাঁদে পা দেব না।’
এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে কার্যকর রক্ষণব্যূহ ভাঙার উপায় খুঁজে বের করতে হবে ফ্রান্সকে। পাশাপাশি উইং ধরে ইয়ামালের আক্রমণগুলো যথাসম্ভব আটকে রাখার পথও তাদের খুঁজতে হবে।
ফ্রান্সের আরেক সেন্টার-ব্যাক ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্স বলেন, “আমি ‘ভয়’ শব্দটি ব্যবহার করব না, তবে আমরা তাদের গুণগত মান সম্পর্কে সচেতন। তারা (গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ০-০ ড্র ছাড়া) তাদের সব ম্যাচ জিতেছে, তাই আমরা তাদের সম্মান করি। তাদের উচ্চমানের খেলোয়াড় রয়েছে, তবে আমরা জিততে চাই।”
প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রেখে সতীর্থদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেওয়ার কারণে কোচের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইয়ামাল। তাকে আটকানোর ব্যাপারে ল্যাক্রোইক্স বলেন, ‘আমরা আমাদের সেরা ডিফেন্ড করব। লামিন একজন অত্যন্ত ভালো খেলোয়াড় এবং সে দেখিয়েছে যে এই বিশ্বকাপে সে অন্য দলগুলোকে বিপদে ফেলতে পারে। আমাদের যা করা প্রয়োজন, আমরা ঠিক সেটাই করব।’
মন্তব্য করুন