
কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে আরও একবার নীল-সাদা উল্লাসের মহাবিস্ফোরণ! সুইজারল্যান্ড গোল শোধ করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরানোর পর যখন তীব্র চাপ তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই আর্জেন্টিনার ত্রাতা হয়ে এলেন ‘দ্য স্পাইডার’ হুলিয়ান আলভারেজ। অধিনায়ক লিওনেল মেসির আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া এক মহানাটকীয় মুহূর্তে সুইস ডিফেন্সকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে এক অনবদ্য দূরপাল্লার শটে গোল করলেন আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড। আলভারেজের এই অপ্রতিরোধ্য গোলের ওপর ভর করে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিটের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল লিওনেল স্কালোনির দল।
মেসির আক্রমণ ও আলভারেজের বজ্রগতির শট: যেভাবে এলো লিড
১-১ সমতায় ম্যাচ যখন যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারত, ঠিক তখনই আর্জেন্টিনা তাদের আক্রমণভাগের ধার বাড়িয়ে দেয়। সুইস রক্ষণব্যূহ ভেঙে আর্জেন্টিনা এক বিধ্বংসী আক্রমণ শানায়।
মেসির জোরালো শট ও কোবেলের প্রতিরোধ: মাঝমাঠ থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সুইজারল্যান্ডের ডি-বক্সের সামনে থেকে এক জোরালো ও বিপজ্জনক শট নেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দুর্দান্ত দক্ষতায় ও সর্বোচ্চ চেষ্টায় মেসির সেই বুলেটগতির শটটি কোনোমতে প্রতিহত (সেভ) করেন।
১৮ গজ দূর থেকে আলভারেজের গোল: কোবেল শট ঠেকালেও বলটি পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেনি সুইস ডিফেন্স। রিবাউন্ড হওয়া বলটি বক্সের ঠিক বাইরে পেনাল্টি লাইনের কাছে পেয়ে যান ওত পেতে থাকা হুলিয়ান আলভারেজ। বল পাওয়া মাত্রই কোনো ভুল না করে ১৮ গজ দূর থেকে এক অপ্রতিরোধ্য ও দর্শনীয় শট নেন তিনি। সুইস গোলরক্ষক কোবেল পজিশন নেওয়ার আগেই বল জালে জড়িয়ে যায়। ২-১ স্কোরলাইন হতেই কানসাস সিটির গ্যালারিজুড়ে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের বাঁধভাঙা জয়োল্লাস শুরু হয়।
খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার বিশ্লেষণ
মেসি ও আলভারেজের আক্রমণাত্মক কৃতিত্ব: ১-১ সমতার পর আর্জেন্টিনা যখন মানসিকভাবে চাপে ছিল, তখন আলভারেজের এই গোলটি ছিল বিশ্বমানের। মেসির সেই জোরালো শটটিই মূলত সুইস ডিফেন্সে ফাটল ধরায়। এরপর ১৮ গজ দূর থেকে আলভারেজের নেওয়া শটের টাইমিং এবং নিখুঁত নিশানা তার জাত চিনিয়েছে। কোবেলের প্রচেষ্টা ও সুইস ডিফেন্সের ব্যর্থতা: সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের এখানে বড় কৃতিত্ব ছিল মেসির মতো খেলোয়াড়ের শট প্রতিহত করা। তবে ব্যর্থতা ছিল সুইস ডিফেন্ডারদের, যারা কোবেল সেভ করার পর রিবাউন্ড বলটি ক্লিয়ার করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন এবং আলভারেজকে ১৮ গজ দূরে সম্পূর্ণ আনমার্কড রেখে শট নেওয়ার ফাঁকা জায়গা করে দেন।
কৌশলগত দ্বৈরথ ও মাঠের চিত্র ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হাতে। আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে সুইজারল্যান্ডকে এখন তাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে অল-আউট আক্রমণে উঠতে হবে। অন্যদিকে, লিড নেওয়া আর্জেন্টিনা চাইবে বল পজিশন ধরে রেখে সুইসদের কাউন্টার অ্যাটাকে আরও বড় ধাক্কা দিতে।
মন্তব্য করুন