
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সাগরদাঁড়ি-সারসা সংযোগকারী কাঠ ও বাঁশের সাঁকো প্রবল স্রোতের তোড়ে ধসে পড়েছে। এতে কেশবপুর ও সাতক্ষীরার দুই পাড়ের প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে নদীতে সৃষ্ট তীব্র স্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। এর ফলে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার সারসা, সরুলিয়া, সেনেরগাতি, ধানদিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এবং যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর ও রেজাকাটিসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই সাঁকো ব্যবহার করতেন। সাঁকোটি ধসে পড়ায় এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে।
সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস বলেন, “সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নদের ওপারের শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে।”
সাগরদাঁড়ি কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, “প্রতিদিন ওপার থেকে অনেক ক্রেতা ও কৃষক বাজারে আসতেন। সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর ক্রেতা কমে গেছে। মালামাল আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন