
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার হাই-ভোল্টেজ সমীকরণ সামনে রেখে আজ কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং সুইজারল্যান্ড। কানসাস সিটির বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আলবিসেলেস্তেরা চেনা ছন্দে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সুইস ডিফেন্সকে কোণঠাসা করে ফেলে।
একের পর এক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে প্রথমার্ধেই কর্নারের মহড়ায় পড়ে সুইজারল্যান্ড। অবশেষে সেই সেট-পিস থেকেই ডেডলক ভাঙলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। অধিনায়ক লিওনেল মেসির জাদুকরী অ্যাসিস্ট থেকে আসা এই গোলে ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে লিড নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল লিওনেল স্কালোনির দল।
মেসির চতুর কর্নার ও ম্যাক অ্যালিস্টারের বুলেট হেডার: যেভাবে এলো লিড কানসাস সিটির গ্যালারি কাঁপিয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই সুইস রক্ষণব্যূহ ভাঙার জন্য সেট-পিসের ওপর জোর দেয় আর্জেন্টিনা।
টানা কর্নারের চাপ: আর্জেন্টিনার মুহুর্মুহু আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে সুইজারল্যান্ড ব্যাক-টু-ব্যাক কর্নার দিতে বাধ্য হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় কর্নারটি সুইস ডিফেন্ডাররা কোনোমতে ক্লিয়ার বা বিপদমুক্ত করতে পারলেও, আর্জেন্টিনার পরের কর্নারটির আক্রমণ আর সামলাতে পারেনি তারা।
মেসির মাস্টারক্লাস ও ম্যাক অ্যালিস্টারের ফিনিশিং: কর্নার নেওয়ার জন্য বরাবরের মতোই এগিয়ে আসেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সুইস ডিফেন্সকে বিভ্রান্ত করে মেসি বলটি ভাসিয়ে দেন কাছের পোস্টে (নিয়ার পোস্ট)। সেখানে চিতা বাঘের মতো ক্ষিপ্রতায় নিজের মার্কারকে (কড়া পাহারা থাকা ডিফেন্ডার) পেছনে ফেলে বলের লাইনে চলে আসেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। নিখুঁত টাইমিংয়ে এক দর্শনীয় হেডের সাহায্যে বলটি দূরের কোণায় (ফার পোস্ট) জালে জড়িয়ে দেন এই লিভারপুল মিডফিল্ডার। সুইস গোলরক্ষক ঝাঁপালেও বলের নাগাল পাননি। ১-০ স্কোরলাইন হতেই গ্যালারিজুড়ে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের নীল-সাদা উল্লাস শুরু হয়।
খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার বিশ্লেষণ
মেসি ও ম্যাক অ্যালিস্টারের বিশ্বমানের রসায়ন: সেট-পিস থেকে কীভাবে নিখুঁত গোল আদায় করতে হয়, মেসি ও ম্যাক অ্যালিস্টার তা আরও একবার দেখালেন। মেসির মাপা কর্নার এবং ম্যাক অ্যালিস্টারের পজিশনিং সেন্স ও হেডের নিখুঁত দিক পরিবর্তন ছিল এক কথায় অনবদ্য।
সুইজারল্যান্ডের রক্ষণাত্মক অসতর্কতা: টানা কর্নার ডিফেন্ড করার সময় সুইস ডিফেন্সের যে একাগ্রতা দরকার ছিল, তা এই গোলের সময় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বক্সের ভেতর ম্যাক অ্যালিস্টারকে কড়া পাহারায় (মার্কিং) রাখার দায়িত্বে থাকা সুইস খেলোয়াড়টি তাকে সহজেই টপকে যাওয়ার সুযোগ করে দেন, যা নকআউটের মঞ্চে একটি বড় ব্যর্থতা।
কৌশলগত দ্বৈরথ ও মাঠের চিত্র
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সুইজারল্যান্ডের রক্ষণাত্মক ছক এখন বড় ধাক্কা খেল। আগামী ১৫ জুলাই সেমিফাইনালের মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে জ্যাকার দলটিকে এখন রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে অল-আউট আক্রমণে নামতে হবে। অন্যদিকে, লিড নেওয়া আর্জেন্টিনা চাইবে বল পজিশন ধরে রেখে সুইজারল্যান্ডকে আরও চাপে ফেলতে এবং কানসাস সিটির মাঠে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের পকেটে পুরতে।
মন্তব্য করুন