
ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেনসের মায়ামি স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখল চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ও রুদ্ধশ্বাস এক থ্রিলার। পিছিয়ে পড়েও জুড বেলিংহামের অতিমানবীয় জোড়া গোলে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের স্মরণীয় ও রূপকথার মতো বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি ঘটিয়ে ‘থ্রি লায়ন্স’রা এখন ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে।
মায়ামির রুদ্ধশ্বাস যুদ্ধ: গোল ও নাটকের বিবরণ
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা ধীরগতির ছিল ইংল্যান্ড। সেই সুযোগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় নরওয়ে। ফরাসি ও স্প্যানিশ ঝড়ের পর মায়ামির মাঠে শুরু হয় হালান্ড-ঝড়। আর্লিং হালান্ডের একটি দুর্দান্ত হেড সরাসরি জর্ডান পিকফোর্ডের গ্লাভসে জমা হলেও থমাস টুখেলের দল সেই সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি।
নরওয়ের প্রথম আঘাত: ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আসে সেই ধাক্কা। নরওয়ের তরুণ তুর্কি আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপের এক নিখুঁত আড়াআড়ি (ডায়াগোনাল) শট ইংল্যান্ডের দূরের পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে নরওয়েজিয়ান গ্যালারি (১-০)।
বেলিংহামের সমতাসূচক গোল: প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে যখন ইংল্যান্ড প্রবল চাপের মুখে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি-স্প্যানিশ লিগের চেনা তারকা জুড বেলিংহাম। একক দক্ষতায় মাঝমাঠ থেকে এক দুর্দান্ত দৌড় এবং বক্সের ভেতর ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ডকে ১-১ সমতায় ফেরান তিনি। এর কিছুক্ষণ পর হ্যারি কেইন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
ভিএআর (VAR) রিভিউ ও ক্রসবারের বাধা: ম্যাচের ৬০তম মিনিটে টরব্যর্ন হেগেম নরওয়েকে আবারও এগিয়ে দিয়েছিলেন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু ভিএআর (VAR)-এর হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়, কারণ কর্নারের সময় হালান্ড ফাউল করেছিলেন এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে। এরপর ক্রিস্টোফার আজারের একটি বুলেট হেড ক্রসবারে আঘাত করলে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা পায় ইংল্যান্ড।
অতিরিক্ত সময়ে বেলিংহাম ম্যাজিক
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে জয়ের নায়ক সেই বেলিংহাম। বদলি খেলোয়াড় মরগান রজার্সের এক জোরালো শট নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ড ঠিকমতো গ্রিপ করতে পারেননি। হাত থেকে ফস্কে যাওয়া সেই ফিরতি বলটিতে চিতা বাঘের মতো ক্ষিপ্রতায় শট নিয়ে বল জালে জড়ান বেলিংহাম। তার এই জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের শেষ চার।
খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার বিশ্লেষণ
জুড বেলিংহামের নায়কোচিত কৃতিত্ব: দলের মহাবিপদে হাল না ছেড়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়া এবং অতিরিক্ত সময়ে রিবাউন্ড বল রিড করে জয়সূচক গোল করা—বেলিংহামকে আজ ম্যাচের সেরা প্রমাণ করেছে। তার পজিশনিং সেন্স ছিল বিশ্বমানের। নরওয়ের গোলরক্ষকের মারাত্মক ব্যর্থতা: পুরো ম্যাচজুড়ে নরওয়ে দারুণ লড়লেও অতিরিক্ত সময়ে গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ডের একটি বল ধরতে না পারার ভুল পুরো দলের সেমিফাইনালের স্বপ্ন চূর্ণ করে দেয়।
হালান্ডের লড়াই ও স্পেনের রক্ষণ ভাঙার ব্যর্থতা: আর্লিং হালান্ড পুরো ম্যাচেই স্প্যানিশ ডিফেন্সের মতো ইংলিশ ডিফেন্সকে ব্যতিব্যস্ত রাখলেও ভিএআর-এর ফাউল এবং প্রথমার্ধের সুযোগ হাতছাড়া করা নরওয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।
সেমিফাইনালের সমীকরণ: সামনে আর্জেন্টিনা নাকি সুইজারল্যান্ড?
নরওয়ের প্রতিরোধ ভেঙে ইংল্যান্ড এখন সেমিফাইনালের মঞ্চে। আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচে মাঠে নামবে টুখেলের দল। সেখানে তারা মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ী দলের।
মন্তব্য করুন