
ওমান উপসাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনীর অভিযোগ, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন অভিযানের কমান্ড ও সমন্বয় কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। তবে ইরানের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ইরানের নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান উপসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের গতিবিধির বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তেহরানের দাবি, ওই যুদ্ধজাহাজটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাসংশ্লিষ্ট মার্কিন সামরিক তৎপরতার নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছিল।
ইরানের নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী আচরণ এবং ওমান উপসাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর জাহাজটিকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ইরানের দাবি, তারা ওই ‘শত্রুতামূলক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’ হিসেবে বিবেচিত লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করেছে।
একই সঙ্গে ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, ইরানের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাদের দাবি, সমুদ্রে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ নিরাপদ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম