
তীব্র তাপপ্রবাহ এবং দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ইউরোপের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশ ইতালির উত্তরাঞ্চল ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছে। পানির তীব্র সংকটে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে, কোথাও আগাছায় ভরে যাচ্ছে জমি। ফলে চলতি মৌসুমে ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
ইতালির পাভিয়া প্রদেশের কৃষক শারন আঙ্গোলি জানান, তার একটি ধানক্ষেত এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে এখন আর ভালো ফলনের আশা নেই। তিনি বলেন, এখন ভারী বৃষ্টিপাত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ফসল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না।
আরেক কৃষক কার্লো আঙ্গোলির মতে, ধানক্ষেত টিকিয়ে রাখতে অন্তত ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত জরুরি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শিলাবৃষ্টি হলে ফসলের আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে সেপ্টেম্বরে কাটার জন্য প্রস্তুত ধানও নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পাভিয়া ইতালির সবচেয়ে বড় ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর একটি। কিন্তু বসন্তে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সুশি তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ জাতের ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া না যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে খরার প্রভাব পড়েছে উত্তর ইতালির গুরুত্বপূর্ণ পো নদী ও এর শাখা-নদীগুলোতেও। নদীগুলোর পানির স্তর দ্রুত কমে যাওয়ায় হ্রদ থেকে পানি ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমান হারে পানি ব্যবহার চলতে থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানির সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে বিরোধও বাড়ছে। এক অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, অন্য অঞ্চলে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করায় তাদের জমিতে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাচ্ছে না।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, জুন মাসজুড়ে ইউরোপে যে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, তা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনেরই একটি সুস্পষ্ট প্রভাব।
পরিবেশবিদদের মতে, ভবিষ্যতে এমন সংকট মোকাবিলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, আধুনিক সেচব্যবস্থা চালু, নদী ও জলাধার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
কৃষকদের আশঙ্কা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে ইতালির ধান উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। এর প্রভাব শুধু দেশটির কৃষি খাতেই নয়, ইউরোপের চালের বাজার এবং বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন