
মার্কিন সেনা হত্যার ঘটনায় ইরানকে ‘বহুগুণ মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সপ্তাহান্তে একাধিক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর সোমবার (২১ জুলাই) তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলায় দুজন সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও একজন সেনার দেহাবশেষ শনাক্ত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যতবার ইরান কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা করবে, ততবারই দেশটিকে ওই হত্যার জন্য বহুগুণ মূল্য দিতে হবে। এ বিষয়ে তার নির্দেশনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে মার্চ মাসে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবাতে একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহত সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডেলাওয়্যারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্প পেন্টাগনকে কী ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জর্ডানে প্রাণঘাতী হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার মোতায়েন শুরু করেছিল।
এদিকে মার্চ পর্যন্ত ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জো কেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ব্যাপক হতাহতের শিকার হওয়ার আগেই আমাদের সৈন্যদের সরিয়ে নিতে হবে। উত্তেজনা বৃদ্ধির এই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনা এবং গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও হামলার নির্দেশ দেন।
রয়টার্সের সূত্রগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী সচল রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, ভবিষ্যতে আরও বড় সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে ইরানের এসব সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা প্রয়োজন।
সূত্র : রয়টার্স
মন্তব্য করুন
২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম