
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত পুশ-ইনের একটি বড় প্রচেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবির লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনকে বহনকারী একটি গাড়ি আমঝোল সীমান্ত এলাকায় এসে থামে। অভিযোগ রয়েছে, বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের কাঁটাতারের গেট ব্যবহার করে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন।
সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সতর্ক হয়ে ওঠেন। মাইকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের একত্রিত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে বিষয়টি জানানো হয়।
স্থানীয়দের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিজিবির দ্রুত উপস্থিতির ফলে সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। পরিস্থিতির মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন। পরে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবির লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ-ইন কিংবা অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যক্রম চোখে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করতে হবে।
তার ভাষায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি বিজিবির কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তোলে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে পুশ-ইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে লালমনিরহাটের আমঝোল সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর এই সমন্বিত প্রতিরোধকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন