শনিবার
১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের পর এবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে। পশ্চিমা গণমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, “খসড়া স্মারকে এখনো কিছু পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই চুক্তি প্রমাণ করছে যে চলমান সংঘাতের পর ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে।”

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানই বিজয়ী হয়েছে।

চুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে পরবর্তীতে আলাদা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই সমঝোতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ করতে পারে এবং আলোচনা ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সম্প্রতি একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনাও ঘটে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে জানান, সম্ভাব্য চুক্তির কারণে তিনি হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রায়ান জিনকেও বলেছেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও। পরে ট্রাম্প তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

আলোচনায় থাকা খসড়া অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলবে। যদিও বিভিন্ন শর্ত নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে খসড়া চূড়ান্ত করতে এতদিন বিলম্ব হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অস্ট্রিয়ার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা উল্ফগ্যাং পুসতাই মনে করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি বাস্তবে হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার সময় এখনো আসেনি।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের আগে শনিবারের মধ্যে বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হতে পারে। রোববার সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অংশ নিতে পারেন।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করা, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

এ ছাড়া বিদেশে আটকে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার সম্ভাবনা সামনে আসার পর ইসরাইলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ইল কোহেন বলেছেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত লক্ষ্য বিবেচনায় না নিয়ে কোনো চুক্তি হলে তারা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তার ওপর ইসরাইলের নির্ভরতা থাকায় ওয়াশিংটনের চাপ এলে লেবানন ইস্যুতে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি তার জন্য উদ্বেগের কারণ।

বড় কোনো অর্জন না হোক, এই সমঝোতা স্মারকে সই ট্রাম্পের জন্য ‘মুখরক্ষার’ সুযোগ বলে মনে করছেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব রোমের শিক্ষক আন্দ্রিয়া দেসি। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে বের হতে একটি সমঝোতার পথ খুঁজতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত একটা চুক্তি তাঁর মুখরক্ষা করবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

মাটি ব্যবসায়ীদের বেপরোয়া গাড়ি চলাচলে নষ্ট হচ্ছে কাঁচাপাকা রাস্তা

বিশ্বকাপ উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে বাঘারপাড়া বণিক সমিতিকে প্রজেক্টর উপহার দিলেন ডা. ইনামুল কবির

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বহাল

দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

মুখে দাড়ি থাকায় ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালাকে হত্যা

লালমনিরহাটে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি ও গ্রামবাসী

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

প্রধানমন্ত্রী এখন কক্সবাজারে

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পেল কানাডা

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

‘অপহরণ নয়, আত্মগোপনে ছিলেন সেই শিবির নেতা’

বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার আর নেই

আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের পর্দা উন্মোচন

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ আজ

টিভিতে আজকের খেলার সূচি

অবসরের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন অক্ষয় কুমার

আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

তীব্র গরমে প্রাণ জুড়াচ্ছে তালের শাঁস

X