
লিওনেল মেসি যেন বয়সের সব সমীকরণকেই ভুল প্রমাণ করে চলেছেন। ৩৮ বছর বয়সেও তার পারফরম্যান্সে বিস্মিত পুরো ফুটবল বিশ্ব। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মেসি শুধু ম্যাচ জেতাননি, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসেও নিজের নাম আরও গভীরভাবে লিখে ফেলেছেন।
এই হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন মেসি। এখন তার গোল সংখ্যা ১৬, যা তিনি ভাগ করে নিয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের সঙ্গে।
এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনাল্ডো নাজারিওকে, যিনি দীর্ঘদিন এই তালিকার অন্যতম শীর্ষে ছিলেন।
মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আবারও আলোচনায় এসেছে ইউরোপে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। কয়েক মাস আগে তিনি ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে নতুন চুক্তি করে নিজের ভবিষ্যৎ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। ফলে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে ফেরার সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সমর্থকদের জন্য রয়েছে অন্য এক আবেগঘন সম্ভাবনা। স্প্যানিশ গণমাধ্যম ‘টোটাল সকার’-এর দাবি অনুযায়ী, মেসিকে আবারও বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা যেতে পারে—তবে সেটি হবে একটি বিদায়ী সম্মাননা ম্যাচে।
বার্সেলোনা ও ইন্টার মায়ামি নাকি দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঐতিহ্যবাহী জোয়ান গ্যাম্পার ট্রফি কেন্দ্র করে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ম্যাচটি চলতি বছরে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও এখন ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে নতুনভাবে সংস্কারকৃত স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুয়ে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকলে এই ম্যাচ শুধু নতুন স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী উৎসবই হবে না, বরং মেসির জন্য হতে পারে একটি আনুষ্ঠানিক বিদায়ী আয়োজন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই ম্যাচে মেসি দুই দলের জার্সিতেই কিছু সময় মাঠে নামতে পারেন। ২০২১ সালে অশ্রুসিক্ত বিদায়ের পর যে আনুষ্ঠানিক বিদায় তিনি পাননি, সেটি হয়তো শেষ পর্যন্ত পূরণ হতে যাচ্ছে বার্সেলোনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তারকার জন্য।
মন্তব্য করুন