
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিনা কবীর (৭৫)-কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। জানাজার পূর্বে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডসহ সর্বস্তরের মানুষ।
রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টায় মোরেলগঞ্জ মডেল মসজিদ চত্বরে প্রয়াত এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতীশ সরকার গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে এসআই মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি দল আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করে।
এ সময় মরহুমার একমাত্র সন্তান সরোয়ার এজাহান রনি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম বাবুল, মো. রুহুল ফকির, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল হাই খানসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল হক বাবুল, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ জব্বারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ৯নং সেক্টরের সুন্দরবন সাব-সেক্টরে এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম কবীর আহম্মেদ মধু। তাঁর সহধর্মিনী ও যুদ্ধকালীন সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিনা কবীর শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত ১২টায় পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের উত্তর সরালিয়া গ্রামের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। জানাজা শেষে তাঁকে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম বাবুল বলেন, ১৯৭১ সালে এ অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম কবীর আহম্মেদ মধু অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তাঁর সহধর্মিনী হাসিনা কবীরসহ চারজন নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন, যার মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
মন্তব্য করুন